Anubrata Mondal : কেষ্টর কেস ডায়েরি দেখে চমকালেন বিচারক – asansol cbi court judge was shocked to see anubrata mondal case diary


এই সময়, আসানসোল: অনুব্রত মণ্ডলের গোরু পাচার মামলায় গত ১৪ দিনের তদন্তের কেস ডায়েরিতে চোখ বুলিয়ে বিচারকের মন্তব্য, ‘বাবারে, আমার ২০ বছরের কর্মজীবনে এ জিনিস শুনিনি, দেখা তো দূরের কথা।’ আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তীর হেফাজতে থাকা সেই কেস ডায়েরি নিয়ে এর পর শুরু হয় জল্পনা। কেস ডায়েরির কোন অংশ দেখে বিচারক এমন মন্তব্য করলেন তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। কোনও মহলের ইঙ্গিত, অনুব্রত সঙ্গে এই মামলায় বড় কোনও নাম বা বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। কেস ডায়েরি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সিবিআইয়ের আইনজীবী।

Anubrata Mondal : ‘২০ বছরের কর্মজীবনে এ জিনিস শুনিনি!’, অনুব্রত’র ফাইল দেখে মন্তব্য বিচারকের
শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলকে আদালতে পেশ করা হলেও জামিনের আবেদন করেননি তাঁর আইনজীবী সোমনাথ চট্টরাজ। তবে এদিন বীরভূমের ভোলেবোম রাইস মিলের অ্যাকাউন্ট ডি ফ্রিজের আবেদন করা হয়। পাশাপাশি, সিবিআইয়ের বাজেয়াপ্ত করা অনুব্রতর দু’টি মোবাইল ফোন ফেরতের আবেদন জানানো হয়েছিল। গত ১০ অগস্ট গ্রেপ্তারের পর ওই দু’টি ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফোন দু’টি পাঠানো হয় ফরেন্সিক পরীক্ষায়। সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্য এজলাসে জানান, ফরেন্সিক পরীক্ষার পর সিবিআই মালখানায় রয়েছে মোবাইল দু’টি। ওগুলি এখন দেওয়া যাবে না। তদন্ত চলছে। এর পর বিচারক মোবাইল ফেরত পেতে লিখিত আবেদনের জন্য অনুব্রতর আইনজীবীকে জানান। পরবর্তী শুনানির দিন মোবাইল ফেরত নিয়ে সওয়াল-জবাব হবে।

Saigal Hossain : সেহগলের দেড় কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি
এদিন গত ১৪ দিনের তদন্তের গতি প্রকৃতি নিয়ে বিচারকের কাছে কেস ডায়েরি জমা করেন গোরু পাচার মামলার আইও সুশান্ত ভট্টাচার্য। সেই কেস ডায়েরি খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে এক জায়গায় চোখ আটকে যায় বিচারকের। আইওকে ডেকে কাগজের একটি জায়গায় আঙুল দেখিয়ে নিচু স্বরে কথা বলেন বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী। বিচারক আইওকে বলেন, ‘আমার ২০ বছরের কর্মজীবনে এ জিনিস শুনিনি, দেখা তো দূরের কথা।’ বিচারকের এই মন্তব্যের পরেই আদালত চত্বরে গুঞ্জন শুরু হয়। কেস ডায়েরিতে কী থাকতে পারে তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।

Manik Bhattacharya : ‘আমাকে মেরে ফেলো, কিন্তু স্ত্রী-ছেলেটাকে জড়িয়ো না!’
শুনানি শেষে, অনুব্রতর আইনজীবী সোমনাথ চট্টরাজ বলেন, ‘আমরা এদিন জামিনের আবেদন করিনি। আগেই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। তার শুনানি হবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর। তার আগে অবশ্য ১৪ ডিসেম্বর সিবিআইকে হাইকোর্টে গোটা তদন্ত নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।’ অন্য দিকে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি রয়েছে ইডির।

Anubrata Mondal: এজলাসে “হাই প্রোফাইল” অনুব্রত মণ্ডলের মামলা, আসানসোল আদালতের নথি চুরিতে শোরগোল
এদিনও আদালত চত্বরে এসেছিলেন বীরভূম থেকে আসা দলের বেশ কিছু নেতা। অনুব্রতর সঙ্গে তাঁদের কথা বলতে দেখা গিয়েছে। সম্ভবত শুভেন্দু অধিকারীর বীরভূম সফর নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা হয়েছে অনুব্রতর। দলীয় বিষয়ে কয়েকটি চিঠিতে সই করেন তিনি। তবে এদিন অনুব্রত ছিলেন বেশ সতর্ক। তাঁর কথা যাতে বাইরের কেউ শুনতে না পায়, তার দিকে নজর রাখছিলেন তিনি। বাইরের কেউ উঁকিঝুঁকি মারলেই তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছেন কে তুমি, তোমার পরিচয় কী, তুমি আমাদের কথা কেন শুনছ? শুনানি শেষে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ এজলাস থেকে বেরিয়ে যান অনুব্রত। এদিন গোরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগল হোসেনের ভার্চুয়াল শুনানি ছিল দিল্লির তিহার জেল থেকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *