অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা অভিযোগ করেন, তালিকা যাচাইয়ের কাজটা তাঁদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটা তাঁরা কোনভাবেই করতে চাইছেন না। তাঁদের আরও বক্তব্য, ২০১৮ সালে তৈরি হওয়া তালিকা যাচাইয়ের জন্য তাঁদের হাতে দায়িত্ব ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিকা যাচাইয়ের সময় তাঁদের সঙ্গে লোক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসন সেই কথা রাখেনি। ফলে তাঁদের একাই গ্রামে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে এবং তার ফলে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আশা কর্মী মিতা মণ্ডল অভিযোগ করেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা নিয়ে গ্রামে গেলে তালিকায় বাড়ির মালিকদের অনেকেরই নাম না থাকায় আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এমনকি তালিকায় যাদের নাম নেই তাঁরা বাড়িতে পর্যন্ত চড়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।”
এই কাজ যাতে তাঁদের উপর জোর করে চাপিয়ে না দেওয়া হয় সেই কারণে আজ তাঁরা পথে নামেন বলে জানান অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই আবাস যোজনার তালিকায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উলুবেড়িয়ার বহিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের হেলুপাড়ায় এক আশা কর্মীকে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ভিতরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা নিয়েও এদিন সরব হন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় (PM Awas Yojana) ঘর বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে জোড়া সংকটে পড়েছে রাজ্য সরকার। একদিকে, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সমীক্ষক কর্মীদের জেলায় জেলায় পড়তে হচ্ছে বাধার মুখে। অন্যদিকে, উপভোক্তাদের অভিযোগ জানানোর জন্য এসডিও (SDO) যে কন্ট্রোল রুম খোলার কথা বলা হয়েছিল, সেখান থেকেও আসছে গাফলতির অভিযোগ। সমীক্ষা করতে গিয়ে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা কোনওভাবে আক্রান্ত হলে তার জন্য ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
