Bandan Raha Death : ‘ওরা চাপ দিচ্ছিল…’, থিমমেকার বন্দন রাহার আত্মহত্যা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাদা চন্দন – bandan raha elder brother chandan raha blames ex sister in law for his untimely demise


২১ মার্চ আত্মঘাতী হয়েছেন কলকাতার বিশিষ্ট মণ্ডপশিল্পী বন্দন রাহা। শেষের দিকে বাগুইআটিতে নিজের মেজদার বাড়িতে থাকছিলেন তিনি। ওইদিন সকালে সেখান থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (২২ মার্চ) রাতে শিল্পীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিবার এবং সতীর্থদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এবার বন্দনের সেজদা চন্দন রাহা জানালেন, গত ছ’ বছরে শিল্পী হতাশায় ভুগছিলেন। কিন্তু, কেন?

আসলে ছ’ বছর আগেই বন্দন রাহার স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ডিভোর্স ফাইল করেছিলেন। ফলত আইনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাছাড়া পুজোয় ছোটখাটো কাজ পাচ্ছিলেন। সারা বছর নাকি সেভাবে কাজ পাচ্ছিলেন না।

ফলত অর্থ সংকট তৈরি হয়েছিল। যার জেরে স্ত্রীকে খোরপোষের টাকাও দিতে পারছিলেন না তিনি। চন্দন রাহার কথায়, ‘ছ’ বছর ধরে ডিভোর্সের মামলা চলছিল। ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ভরণপোষণের টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছিল ওর।’
Bandan Raha Death : ‘ভালোবেসে বিয়ে করে অপদস্থ…’, গুরু বন্দন রাহার মৃত্যু প্রসঙ্গে বিস্ফোরক গৌরাঙ্গ কুইল্যা
তাঁর সংযোজন, ‘ভাইয়ের আর্থিক অবস্থা যে খারাপ, সেটা ওরা বুঝতে চাইছিল না। খোরপোষ দিতে পারেনি বলে সাত আট মাস আগে ওর নামে ওয়ারেন্ট বেরিয়ে গিয়েছিল। যার জেরে ওকে পুলিশ কাস্টডিতে থাকতে হয়। ফলে ডিপ্রেশনটা বাড়ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দু’ বার স্ট্রোকও হয়। গত তিন চার বছর ধরে ওর অসুস্থতা বেড়েছিল। ইদানিং মেজদার বাড়িতে থাকছিল। ওখানেই এই ঘটনাটা ঘটেছে।’

বন্দন রাহার অর্থ সংকটে কোনও সতীর্থ পাশে দাঁড়াননি? চন্দনের উত্তর, ‘অনেকদিন ধরেই ভাই অর্থ সংকটে ভুগছিল। এইরকম সময় আজকাল আত্মীয়রাই পাশে থাকেন না, সতীর্থরা কী থাকবেন! খারাপ সময়ে সকলেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাই হয়ত দিনদিন অবসাদ বাড়ছিল।’
Bandan Raha Death : স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে অবসাদে, ভাঁড়ের প্যান্ডেল খ্যাত মণ্ডপশিল্পী বন্দন রাহার রহস্যমৃত্যু

ঠিক কী হয়েছিল ২১ মার্চ?

এ প্রসঙ্গে চন্দন বলেন, ‘ওইদিন মেজদা (বাচ্চু রাহা) বউদিকে ট্রেনে তুলে দেওয়ার জন্য স্টেশনে গিয়েছিলেন। বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল বউদির। ও ফিরে এসে দেখে এই ঘটনা।’

বাচ্চু রাহাও একই কথা জানিয়েছেন এই সময় ডিজিটালকে। তিনি বলেন, ‘মাসছয়েক আগে ওর ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল। তারপর থেকেই কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল। একটু একটু করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছিল। আমি এবং আমার স্ত্রী ওর খেয়াল রাখতাম। চোখে চোখে রাখতাম।’
West Bengal Trending News: ভারতীয় বলে সিলিকন আর্ট শিখতে গিয়ে মার্কিনি সংস্থায় ঘাড়ধাক্কা, নিজের চেষ্টায় আজ প্রখ্যাত শিল্পী সুবিমল
অন্যদিকে, বন্দন রাহার একসময়ের ‘শিষ্য’ গৌরাঙ্গ কুইল্যা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই অশান্তির মধ্যে ছিলেন তাঁর ‘গুরু’। দেখা হলেই দুঃখ করে বলতেন, ‘যাকে ভালোবেসে বিয়ে করলাম, আজ সে-ই এমন করছে।’

একসময় প্রেম করে শহরের প্রথিতযশা মিষ্টি ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন বন্দন রাহা। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। বন্দনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি স্ত্রী। তাই ছ’ বছর আগে ডিভোর্সের মামলা করেন। সেই থেকে শিল্পীর অর্থকষ্ট আরও বেড়েছিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *