Justice Abhijit Gangopadhyay : যৌন হেনস্থা বিরোধী আইনের অপব্যবহার, সরব বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় – justice abhijit gangopadhyay on abuse of workplace harassment women law


এই সময়: কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা বিরোধী আইনের অপব্যবহার নিয়ে এ বার সরব হলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবার রামমোহন লাইব্রেরি এবং ফ্রি-রিডিং রুমে সংবিধান ও নারী অধিকারের উপরে রামমোহন স্মৃতি বক্তৃতা দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আলোচনার একেবারে শেষ দিকে দু’টি আইনের উল্লেখ করেন তিনি। তার মধ্যে একটি কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা বিরোধী আইন।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “কোনও মহিলা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা যতটা সম্ভব সহ্য করে নেওয়ার পরে অভিযোগ করেন। আবার এটার অপব্যবহারও হয়। অত্যন্ত অপব্যবহার করেন। সেটা কোনও বিশেষ সুবিধে নেওয়ার জন্যে বা অফিসে চাকরিগত কোনও সুবিধে নেওয়ার জন্যেই হোক বা কোনও অসুবিধে থেকে সরে যাওয়ার জন্যে।”

Teacher Transfer : শিক্ষক, কর্মীদের বদলির নতুন নীতি স্থগিত কোর্টে
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, অভিযোগগুলি তাই ভালো করে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে পারেন ওই আইন অনুযায়ী গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি বা আইসিসি’র সদস্যরাই। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ফের বিতর্ক উসকে দিয়েছে। নারী অধিকার এবং পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মীরা এ ব্যাপারে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

এ দিন লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে বিচারপতি বক্তব্য শেষ করার পর শ্রোতাদের এক জন তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আচ্ছা মহিলারা কি ৪৯৮এ (গার্হস্থ্য হিংসা বিরোধী ধারা)-র অপব্যবহার করেন না?” উত্তরে ওই প্রশ্নকর্তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেই বিচারপতি বলেন, “৪৯৮এ-র অপব্যবহার হচ্ছে তো। হচ্ছে বলেই এখন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর খতিয়ে না দেখে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

নারী আন্দোলনের কর্মী অধ্যাপক শাশ্বতী ঘোষের বক্তব্য, “জনমানসে এই কথাটাই প্রচলিত যে, যৌন হেনস্থা বিরোধী আইনের অপব্যবহার করছেন মহিলারা। তাই যখনই কোনও মেয়ে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, অনেক সময়েই তাঁকে সন্দেহের নজরে দেখা হয়।”

Justice Abhijit Ganguly : ‘আগে অনুষ্ঠান বাড়িতে আসত না, এখন টিভিতে ইন্টারভিউ দিচ্ছে’, তাপসের নিশানায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়?
শাশ্বতী মনে করেন, সমস্ত আইনেরই অপব্যবহার হতে পারে। তা রোখাটাই সচেনতন নাগরিকের কাজ। কিন্তু তাঁর মতে, “কোনও বক্তব্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে অপব্যবহার নিয়ে যদি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো সংবেদনশীল মানুষও একই কথা বলেন, তা হলে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যে কোনও অভিযোগই আসলে অপব্যবহার–এমন একটা বার্তার প্রতি পাল্লা ভারী হয়ে যায়।”

অন্য দিকে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সহমত পুরুষ অধিকার আন্দোলনের কর্মী নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “মেয়েরাই মেয়েদের কবর খুঁড়েছে। দিনের পর দিন এই আইনের ব্যবহারের চাইতে অপব্যবহারই বেশি হতে দেখেছি। কর্মক্ষেত্রে বহু মহিলা নিজেদের সুবিধের জন্যে পুরুষদের জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছেন। বহু পুরুষ এই কারণে হারিয়ে গিয়েছেন, আত্মহত্যাও করেছেন।”

Live In Relationship : লিভ ইন মানে শরীরের অধিকার নয়: হাইকোর্ট
এ দিনের অনুষ্ঠানে অবশ্য সমাজের সমস্ত স্তরের, বিশেষ করে কর্মরত প্রান্তিক মহিলাদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসা, গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে তাঁদের মুখ খোলারও উল্লেখ করেন বিচারপতি। এ সব ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখারও বার্তা দেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *