এই সময়, ঘাটাল: ভোট গণনার দায়িত্বে মৃত সরকারি কর্মচারী! মৃত কর্মীর নামে চিঠি ইস্যু হওয়ায় শোরগোল পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। কী ভাবে এমন কাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন ঘাটাল মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট তথা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার অর্জুন পাল। তিনি বলেন, ‘মারাত্মক ভুল। সাধারণত এ ধরনের চিঠি ইস্যু করা হয় ব্লক অফিস থেকে। ডেটাবেসে কোনও ভাবে মৃত কর্মীর নাম ছিল। যা দেখে চিঠি ইস্যু হয়ে গিয়েছে। এটা একেবারেই অনিচ্ছাকৃত ভুল। কীভাবে তা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Panchayat Election 2023 : মেলেনি কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, BDO-কে চিঠি লিখে ভোট বয়কটের ডাক ঝাড়গ্রামে
ঘাটাল মহকুমা অফিসের কর্মী ছিলেন দেবদীপ মুখোপাধ্যায়। বছর আড়াই আগে পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকেই দেওয়া হয়েছে ঘাটালের ভোট গণনার দায়িত্ব। চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে তাঁর নামে! সূত্রের খবর, ঘাটাল মহকুমাশাসকের দপ্তরের কর্মী দেবদীপ মুখোপাধ্যায়ের আসল বাড়ি মেদিনীপুর শহরে হলেও, কাজের জন্য তিনি ঘাটালের কুশপাতা এলাকায় সরকারি আবাসনে থাকতেন। গত ২০২১ সালের ২৯ মার্চ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু তাতেও রেহাই নেই নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে। মৃত এই সরকারি কর্মীকে দেওয়া হয়েছে ভোট গণনার দায়িত্ব। যা নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

Trending News : লিটার লিটার দুধ দিচ্ছে বাছুর! ঘাটালের মহাপাত্র বাড়িতে ভিড় স্থানীয়দের
ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ‘এটা ভুল নয়। ভোট গণনায় হিসেব গরমিল করার জন্য জেনে-বুঝে এমন কাজ করা হয়েছে।’
অন্য দিকে, এ দিন ইডি ভোট দিতে গিয়ে এক স্কুল শিক্ষক জানতে পারেন, তিনি আসলে ‘ডিলিটেড’। দাসপুরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ জানা ঝাড়গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি করেন। এ দিন নিজের ব্লক অর্থাৎ সাঁকরাইলে ইডি ভোট দিতে না পেরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামের পাশে ডিলিটেড লেখা রয়েছে।

Suvendu Adhikari : ‘৭৭-এ আটকে গিয়েছি, কারণ…’, বিধানসভায় BJP-র পরাজয় নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাতিল হয়েছে। কিন্তু কেন? তাঁর কোনও সদুত্তর পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকায় আমার পরিবারের সকলের নাম আছে। আমার মৃত ঠাকুমার নামের পাশে লেখা রয়েছে ডিলিটেড। আবার আমার নামের পাশেও লেখা রয়েছে ডিলিটেড! তাহলে আমিও কি মৃত? ব্লকের আধিকারিকদের কাছে ঘুরে এর কোনও সদুত্তর পাইনি।’ দাসপুর-২ ব্লকের বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, ‘যেটুকু খোঁজ নিয়ে জেনেছি, উনি দেড় বছর ধরে ঝাড়গ্রামে চাকরিসূত্রে রয়েছেন। ৬ মাসের বেশি নিজের জায়গায় না থাকলে, কেউ অভিযোগ করলে, নাম বাদ পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ডিলিটেড লেখা হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version