এই সময়, পাঁশকুড়া: পাশাপাশি বাড়ি। উত্তর দিকে কাকার বাড়ি। দক্ষিণে ভাইপোদের। এ বারের পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি, তৃণমূল ও সিপিএম-এই তিন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন একই পরিবারের ৩ জন। কোলাঘাটের সিদ্ধা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালনগর গ্রামসভা আসনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা। সকালে ভোট প্রচারে বেরোনোর আগে দুই ভাইপো চলে যান কাকার বাড়িতে। লিকার চা-এ চুমুক দিতে দিতে খোশগল্প করেন তিন জনে। তারপর যে যার কর্মীদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন প্রচারে। পঞ্চায়েতে অশান্তির মধ্যে একেবারে অন্য ছবি কোলাঘাটের গোপালনগরে খান পরিবারে।

Panchayat Election 2023 : ভোটে যুযুধান মামা-ভাগ্নে, রাতে প্রচার শেষে চায়ের দোকানে আড্ডা দু’জনের
কাকা মাধব খান দাঁড়িয়েছেন বিজেপি থেকে। ভাইপো দীপক খান তৃণমূল প্রার্থী। অন্য ভাইপো সঞ্জয় খান সিপিএমের টিকিটে দাঁড়িয়েছেন। ভোটের ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারে নামলেও অটুট রয়েছে তিন জনের পারিবারিক সম্পর্ক, দাবি প্রার্থীদের। মাধব খান বলেন, ‘কে কোন দল করবে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মতাদর্শের ব্যাপার। ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই। তাই বলে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক শেষ করে দেব, এটা ঠিক নয়। নির্বাচনকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারলে কোনও অশান্তি হবে না।’

West Bengal Panchayat News : তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে ‘রাজ্য সরকার’! বঙ্গ রাজনীতিতে নয়া টুইস্ট
২০০৭ সাল থেকে সিপিএম পার্টির সদস্য সঞ্জয় খান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দিনের পার্টি মেম্বার। দাদা কিংবা কাকার বিরুদ্ধে আমার লড়াই নয়। লড়াইটা আদর্শের। কাকাকে আমরা বাবার মতো ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তিনিও ছেলের মতো আমাদের ভালোবাসেন।’ তৃণমূল প্রার্থী দাদা দীপক খান বলেন, ‘কাকা বিজেপি থেকে আর ভাই সিপিএমের হয়ে আমার বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নামলেও পারিবারিক সম্পর্কে চিড় ধরেনি। ভালোমন্দ রান্না হলে কাকা দুই ভাইকে ডেকে খাওয়ান। এই তো সেদিন খাসির মাংস এনে নিজেই রান্না করলেন। এক টেবিলে বসে তিন জন খেলাম। কাকার বাড়ির তরকারি ছাড়া আমাদের খাওয়াটা অপূর্ণ থেকে যায়। আমরা ব্যক্তি আক্রমণে বিশ্বাসী নই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version