ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ চলাকালীন বউবাজারের একাধিক বাড়িতে দেখা গিয়েছিল ফাটল। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপিতুরি লেনের বাসিন্দাদের থাকতে হয়েছিল হোটেলে। ফের এক নতুন সমস্যায় জেরবার বউবাজারের বাসিন্দার। নির্মীয়মাণ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাছে বসবাসকারী বউবাজারের বাসিন্দাদের একটি সংগঠন সম্প্রতি নির্মাণের দায়িতে থাকা সংস্থাকে চিঠি লিখেছে। নির্মাণকাজের জন্য ঘুম শিকেয় উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। চিঠিতে রাতে কাজ বন্ধ করার আবেদন করা হয়েছে। মেট্রোর কাজের জন্য জন্য হওয়া আওয়াজ ও কাঁপুনিতে তাঁদের ঘুম হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Kolkata News : বউবাজারে ফের বিপর্যয়, আবারও ফাটল! এলাকায় আতঙ্ক
বউবাজের মেট্রোর কাজের জন্য দুর্গাপিতুরি লেন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশ তাঁদের বসত বাড়ি ছেড়েছেন। কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটিড তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করেছে। এই সংস্থাই ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত। দুর্গাপিতুরি লেনের কয়েকটি বাড়িকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মেট্রো ঘোষিত ‘নিরাপদ’ বাড়িতে সব মিলিয়ে ৪০ জন বসবাস করেন। বাসিন্দারা বউবাজার মাটি ও মানবকল্যাণ সমিতি নামে একটি সংগঠনও তৈরি করছেন। সেই সংগঠনের তরফেই মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

Kolkata Metro : ময়লা ফেলছেন আপনি, রোজগার হচ্ছে মেট্রোর!
কলকাতা মেট্রোরেল কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিকে শ্রীবাস্তবকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দুর্গা পিতুরি লেনে ভূগর্ভস্থ ইভাক্যুয়েশন শ্যাফ্ট নির্মাণের জন্য যে বোরিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কারণে বিগত কয়েকদিন ধরে আমাদের এলাকায় প্রচণ্ড শব্দ ও কম্পন তৈরি করছে। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী বাসিন্দা মূল প্রবীণ ও শিশুদের নিদ্রাহীন রাত কাটাতে হচ্ছে। আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ দয়া করে রাতে শব্দ ও কম্পনজনিত কোনও কাজ করবেন না।’ মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সেই চিঠি গৃহীত হয়েছে।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ ও হাওড়া ময়দানের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। তীব্র কম্পন ও আওয়াজে ঘুমোতে না পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বুধবার রাতেই মেট্রো রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে নির্মাণস্থলে যান। কিন্তু তখন সেখানে কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না।

Kolkata Metro : মেট্রোর কাজের জন্য মনোহরদাস তড়াগ হবে সাময়িক জলশূন্য
স্থানীয় এক বাসিন্দা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সারাদিনের কাজকর্মের পর আমাদের পক্ষে রাতে ঘুমানো প্রায় অসম্ভব। প্রবীণ ও বাচ্চাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। কী ভাবে দিনের পর দিন ধরে এই ধরনের কাজ চলতে পারে বুঝতে পারছি না। চিঠি দেওয়ার পর এখন কী পদক্ষেপ করা হয় সেটাই দেখার।’ অন্যদিকে মেট্রোরেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘বাসিন্দাদের চিঠি নিয়ে আমরা দ্রুত একটি বৈঠক করব। তাদের কোনও সমস্যা হোক, সেটা আমরা চাই না। একই সঙ্গে কাজও শেষ করতে হবে। এমনিতেই এক প্রকল্পের কাজে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version