এই সময়: কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। এরইমধ্যে তাদের মোতায়েন নিয়েও তৈরি হলো নতুন ধন্দ। আদালতের নির্দেশে সব বুথে সশস্ত্র রাজ্য পুলিশের সঙ্গে একজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে খোদ বাহিনীর কর্তারাই তাতে আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়ম মেনে অন্তত হাফ সেকশন অর্থাৎ চারজন জওয়ানকে প্রতি বুথের দায়িত্ব দিতে হবে। এবিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসার আইজি বিএসএফ এস পি বুধাকোটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছেন।

West Bengal Election 2023 : প্রত্যেক বুথেই কি কেন্দ্রীয় বাহিনী, স্পষ্ট নয় এখনও
চিঠিতে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে যে কোনও ধরনের অশান্তি, বুথ দখলের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি তেমন কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পক্ষে তা সামাল দেওয়াই কঠিন হবে।’ এমনকী, তাঁদের প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন ভাবে বাহিনী মোতায়েনও নিয়ম বিরুদ্ধ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলি ডেপুটি সলিসিটর জেনারেলই হাফ সেকশনের কমেও রাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে সব বুথে কেন্দ্রীয় জওয়ান রাখা যায় বলে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

Panchayat Election 2023 : আজ শেষ পঞ্চায়েতের প্রচার, কবে পৌঁছাবে সেন্ট্রাল ফোর্স
কেন্দ্রীয় বাহিনীর বক্তব্য,বিগত নির্বাচনগুলিতে প্রতি বুধে অন্তত হাফ সেকশন অর্থাৎ কমপক্ষে ৪ জন সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন ছিল। কিন্তু এভাবে বিচ্ছিন্ন একজন করে জওয়ান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন। এরপরেই তাদের এই অবস্থার কথা জানিয়ে বুধাকোটি বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, সব বুথ নয়, স্পর্শকাতর, অতিস্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল বুথের তালিকা দেওয়া হোক। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কিন্তু প্রতি বুথে একজন করে সশস্ত্র জওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও কমিশন কর্তারা বলছেন, ‘এটা আমাদের বিষয় নয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে আইজি বিএসফকে। ফলে সিদ্ধান্ত কার্যকরের দায়িত্বও তাদের।’

Calcutta High Court Central Force: প্রতি ভোট কেন্দ্রে ৫০:৫০ অনুপাতে কেন্দ্রীয়-রাজ্য বাহিনী নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
এদিকে, ভোটের প্রচার শেষ হলেও ৪৮৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত না পৌঁছনোয় বুথে বুথে নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। শনিবার ভোটের আগে বাহিনী আসবে বলেও কেন্দ্রের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা মোকাবিলায় ফল ঘোষণার পরেও রাজ্যে দশ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখতে হবে। জেলাগুলিতে এই বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে হবে সরকারকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অতীতেও এখানে ভোট পরবর্তী হিংসার নজির রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

West Bengal Election 2023 : বুথে পুলিশ, বাইরে টহল দেবে বাহিনী
এদিন, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চেও বুথে বাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে জানানো হয়, ইতিমধ্যে ৩৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলাগুলিতে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু বাকি ৪৮৫ কোম্পানি কবে পৌঁছবে তা পরিষ্কার হয়নি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে স্বীকার করে নেওয়া হয়, শনিবার ভোটের আগে সম্পূর্ণ বাহিনী রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। যা শুনে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কমপক্ষে ৮০ শতাংশ আসবে তো? কেন্দ্রের প্রতিনিধি সে বিষয়ে আদালতকে নিশ্চিত করেন।

West Bengal Election 2023 : রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বুথে বিহার-ঝাড়খণ্ডের ফোর্সও? ভাবনা কমিশনের
রাজ্য নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, পুরো বাহিনী পাওয়া না গেলে সব বুথে একজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে সমস্যা হবে। রাজ্যের ২২ জেলায় ৪ হাজার ৮৩৪ টি এলাকা স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত হলেও সেখানকার সব বুথেও অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ দেওয়া হচ্ছে না। বরং মোবাইল ইউনিটকে বিশেষ নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের ভোটে রাজ্যে মোট ৬০ হাজার ৫৯৩টি রয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশ মেনে একজন করে জওয়ান ও রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ দিতে গেলে প্রয়োজন এক লক্ষ ২১ হাজার ১৮৬ সশস্ত্র পুলিশ। কমিশনের সিদ্ধান্ত, যদি দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কম এসেছে, তাহলে প্রতি বুথে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশই পাহারায় থাকবে। তবে চূড়ান্ত সবকিছুই ঠিক হবে আজ,শুক্রবার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version