বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের আসার পর বালিগঞ্জ থেকে উপনির্বাচন জিতে পর্যটন দফতরের মন্ত্রী হন বাবুল সুপ্রিয়। তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীলের থেকে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব নিয়ে বাবুলের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে ‘নাখুশ’ ছিলেন ইন্দ্রনীল। ফের তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের দায়িত্ব দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা। বাঁকুড়া জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে মহানায়ক সম্মানও পেয়েছেন তিনি। ফের সায়ন্তিকার ‘পদপ্রাপ্তি’ দলীয় শীর্ষনেতৃত্বের তাঁর উপর আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমে এই রদবদলের ফলে ফের একবার চর্চায় আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী। সিভি আনন্দ বোস বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাজভবনে কর্মরত ছিলেন নন্দিনী। রাজ্যপালের ওএসডি পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিলেন এই সিনিয়র আইএএস অফিসারের কাঁধে। রাজ্যপালের ‘হাতে খড়ি’ অনুষ্ঠান নিয়ে বিজেপির আক্রমণের মুখে পড়েন নন্দিনী। তারপর তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন রাজ্যপাল। তারপরই তাঁকে পর্যটন দফতরের সচিব পদে নিযুক্ত করে সরকার। সেই নন্দিনীকে ঠিক কী কারণে, নিগমের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পর্যটনের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উদ্যোগে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে একাধিক নয়া পর্যটনকেন্দ্রের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। তবে বাবুলের হাতে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব যাওয়ার পর থেকে বেশ কিছু কাজে অখুশি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক সভার ফাঁকে বাবুলকে মৃদু ভর্ৎসনাও করেন মমতা। তারপর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর ফের নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অলিন্দে।
