এই সময়, আলিপুরদুয়ার: গত বৃহস্পতিবার ৩ অগস্ট গোরুমারা বনবিভাগের দক্ষিণ রেঞ্জের জিরো বাঁধ এলাকায়, গরাতি নদীতে একটি গন্ডার শাবককে খাবি খেতে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার করেছিলেন বনকর্মীরা। আনুমানিক ২০ দিনের শাবকটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত শাবকটির মায়ের হদিশ না মেলায়, ওই গন্ডার শাবককে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে নিয়ে আসা হয়। শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু রবিবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শাবকটি।

Buxa Tiger Reserve : বক্সায় ছ’দশক পর ফিরছে একশৃঙ্গ গন্ডার
মৃত গন্ডার শাবকটির দেহের ময়নাতদন্তের সময়, তার পেট চিরে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দেড় কিলোগ্রাম বালি ও কাদা। এর ফলেই তার অন্ত্রে দেখা দিয়েছিল সংক্রমণ। গোলানো গুঁড়ো দুধ ও ওআরএস দেওয়া হলেও পেটের অসম্ভব যন্ত্রণার কারণে সে কিছুই খেতে পারছিল না। শারীরিক যন্ত্রণা আর মায়ের দুধের অভাবে ক্রমশই শাবকটি দুর্বল হয়ে পড়তে শুরু করে শাবকটি। শেষমেষ মারাই গেল সে।

Kuno Cheetah Death Reason : শরীরে বাসা বেঁধেছিল শয়ে শয়ে ম্যাগট! কুনোর চিতা মৃত্যুতে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক রিপোর্ট
এর আগে ২০১৮ সালেও একটি মা-হারা গন্ডার শাবককে উদ্ধারের পর, তাকে সুস্থ করে পাঠানো হয় কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানায়। এখন সে সেখানে ‘জলদাপ্রসাদ’ নামে খুবই পরিচিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ ছেড়ে বন্দিজীবনে রীতিমতো ডাকাবুকো হয়ে উঠেছে সে। জলদাপ্রসাদকে নিয়ে এই সাফল্যের পর বৃহস্পতিবার গোরুমারায় উদ্ধার হওয়া শাবকটিকে নিয়ে বনকর্তারা পরিকল্পনা করেছিলেন যে, তাকেও সুস্থ করে কোনও উপযুক্ত যাওয়ায় পুনর্বাসন দেওয়া হবে। কিন্তু শেষে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মন খারাপ বনকর্তাদের।

Rainfall Forecast : সুবর্ণরেখার জলস্তর বৃদ্ধি, ভাঙল ৩ টি ব্রিজ
উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ‘ভরা বর্ষায় কোনও ভাবে নদীতে পড়ে যাওয়ায় গন্ডার শাবকটির পেটে প্রচুর পরিমাণে বালি ও কাদা ঢুকে গিয়েছিল। অন্ত্রে সংক্রমণই ওই শাবকের মৃত্যু ডেকে আনে। যার ফলে আমরা চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হলাম।’ তবে ওই গন্ডার শাবকটি নদীর জলে পড়ে যাওয়ার পিছনে আরও একটি তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন বনকর্তারা।

Hacking: কম্পিউটারের চেয়েও সহজ NASA, ISRO-র স্যাটেলাইট হ্যাকিং! বড় সতর্কবার্তা গবেষকদের
প্রজননের মরসুমে পুরুষ গন্ডার কোনও মাদিকে পছন্দ করলে, সে যদি সঙ্গমে রাজি না হয়, তবে তাকে একপ্রকার বাধ্য করে পুরুষ গন্ডার। আর ওই মাদির সঙ্গে যদি শাবক থাকে, তবে সেই শাবকের উপর পুরুষ গন্ডারের সব রোষ গিয়ে পড়ে। সঙ্গমে অরাজি মাদির শাবকের উপর প্রাণঘাতী হামলা পর্যন্ত চালায় ক্ষিপ্ত পুরুষরা। রাজেন্দ্র জাখর বলেন, ‘মাদিকে কাছে পাওয়ার জন্য কোনও পুরুষ গন্ডার যে তাড়া করে শাবকটিকে নদীর জলে ফলে দেয়নি, তেমন আশঙ্কার কথাও আমরা খারিজ করছি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version