Government Employee : চোখে না দেখেও দৃষ্টিহীন শিশুদের পড়ানোর নেশা! রাজ্যের সরকারি কর্মীকে কুর্ণিশ সকলের – hooghly government employee teaches blind school students for free good news


দৃষ্টিশক্তি নেই। চোখের আলো হারিয়েও দৃষ্টিহীনদের পড়াশোনা শেখান সরকারি কর্মচারী পবিত্র মণ্ডল। আর এই সরকারি কর্মীকে নিয়ে এখন তুমুল চর্চা। কিন্তু মনের ইচ্ছা শক্তির জোরে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জয়ী হয়েছে একের পর এক কর্মে। বর্তমানে হুগলির জেলাশাসক অফিসের সমাজ কল্যাণ দফতরে কর্মরত তিনি। দৃষ্টিহীন শিশুদের পড়াশোনার কাজ করাটাই তাঁর নেশা ও পেশা।

আর পাঁচটা যুবকের মতোই প্রতিদিন বাঁশবেড়িয়া থেকে রিষড়ায় আসেন দৃষ্টিহীনদের পড়াতে। এই কাজে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্ত্রী টুম্পা। তিনি দৃষ্টিশক্তিহীন। ছোটবেলা থেকে কর্নিয়ার সমস্যা থাকার কারণে চোখে দেখতে পান না তিনি। বর্তমানে চুঁচুড়ায় একটি কোয়াটারে দিব্যি সংসার করছেন দুজনে। তাঁদের ইচ্ছা আগামী দিনে দৃষ্টিশক্তিহীন শিশুজদের ব্রেলের মাধ্যমে পড়াশোনা শিখিয়ে শিক্ষিত করা। যাতে তাঁর মতো তারাও মনের সমস্ত অন্ধকার কাটিয়ে জীবনে জয়ী হতে পারে।

কীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারায় পবিত্রর?

কয়েকদিনের জ্বরে কাবু করেছিল তাঁকে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হন পবিত্র। আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় চোখের দৃষ্টি শক্তি। ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় বাবা মায়ের লড়াই সংগ্রাম। বাবা দিনমজুরের কাজ করে যা উপার্জন করতেন, তাতে কোনওরকমে চলত সংসার। কিন্তু ছেলের এমন অবস্থা দেখে দিশাহারা হয়ে যায় পরিবার। যদিও হাল ছাড়তে রাজি হননি তাঁরা। সুদূর বাঁকুড়া থেকে কয়েকশো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে চলে আসেন হুগলিতে। ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে লড়াই চালিয়ে যান দুজনেই।

দৃষ্টিহীনতা নিয়ে পড়াশোনা

হুগলিতে উত্তরপাড়ার লুই- ব্রেল স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করেন বাবা। সেখান থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর উত্তরপাড়ার অমলেন্দু বিদ্যাপীঠ স্কুলে পড়াশোনা শিখে কলেজে ভর্তি হন। ইংরেজিতে এমএ করে হুগলি জেলাশাসক অফিসে কাজ পান। কাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিদিন শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় তাকে। উদ্দেশ্য একটাই, দৃষ্টিহীন শিশুরা যেন বঞ্চিত না হন।

পবিত্র বলেন, ‘ছোটবেলায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। নিজে সরকারি চাকরি করার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিহীন শিশুদের পড়াশোনা শেখাই। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে একটা শিশুকে ব্রেইল শেখানো ও প্রাথমিক পড়াশোনা শেখানোর কাজ করি। বর্তমানে চারজন দৃষ্টি জয়ী শিশুকে পড়াই। আর এই কাজে আমাকে সাহায্য করে আমার স্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে দৃষ্টিহীনদের জন্য আলাদা করে কোনও কোচিং সেন্টার নেই। অন্য শিশুদের সঙ্গে পড়তে তাদের সমস্যা হয়। আমাদের সবটাই কানে শুনে করতে হয়। আমার উদ্দেশ্য দৃষ্টি জয়ী শিশুদের জন্য একটা কোচিং সেন্টার তৈরি করার।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *