Visva Bharati University : বিজেপির সঙ্গে রফা? এসএফআই, সিপিএম থেকে ইস্তফা ছাত্রনেতার – visva bharati university student leader somnath sow resigned from sfi and cpm


এই সময়: বিজেপি, আরএসএসের সঙ্গে যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এসএফআই ও সিপিএম ছাড়লেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের মুখ সোমনাথ সৌ। সংগঠন ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশ্বভারতীর প্রাক্তন বিতর্কিত উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে তাঁর কেরিয়ারে বাধা তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ সোমনাথের।

এমনকী এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলায় সাংসদ-আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সোমনাথ। যদিও বিকাশরঞ্জনের দাবি, ‘সোমনাথ কারও ফাঁদে পড়েছে। তাই এ সব বলছে। ভিত্তিহীন কথাবার্তা।’ ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে এসএফআই।

বিদ্যুৎ-জমানার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলনে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন এসএফআইয়ের নেতা সোমনাথ। তিনি সংগঠনের রাজ্য কমিটিরও সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করেছিলেন বিদ্যুৎ। অমর্ত্য সেনকে অপমান করা হচ্ছে কেন–ফেসবুকে এই পোস্ট করেও বিদ্যুতের রোষে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে সাসপেন্ড করে রাখা হয়। এমনকী যোগ্যতা প্রমাণ করা সত্ত্বেও তাঁকে নির্দিষ্ট স্তরে অ্যাডমিশন দিতে অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়। মামলা করেন সোমনাথ। বছরখানেক আগেও তিনি এক বার এসএফআই ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। সোমনাথের দাবি, নেতৃত্বের অনুরোধে সে বার পদত্যাগ করেননি।

কিন্তু এ বার কী হলো? বীরভূম জেলার এসএফআই ও সিপিএম নেতৃত্বকে দেওয়া চিঠিতে সোমনাথ দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সোমনাথের দাবি, ‘গত বছর জানুয়ারিতে আন্দোলনের নামে শান্তিনিকেতনে আসেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, রাজ্য সম্পাদক ও সভাপতি। এসেই তাঁরা বিদ্যুতের সঙ্গে বৈঠক করেন। এবং আমি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারি, সাসপেনশন যাতে না তোলা হয়–সে ব্যাপারে বিদ্যুতের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করেন।’

সোমনাথের অভিযোগ, ‘আমি মামলা করি। লোয়ার কোর্টে জিতি। বিশ্বভারতী হাইকোর্টে যায়। সেই মামলা আমাদের হয়ে লড়ছিলেন বিকাশরঞ্জনবাবু। নিম্ন আদালতে যে আমরা জিতেছি, সে কথা তিনি বেমালুম লুকিয়ে যান।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিকাশরঞ্জনবাবু আদালতে উল্টে বলেন, আমরা ভিসির কাছে ক্ষমা চাইতে রাজি। সেটা একেবারেই আমাদের ইচ্ছাবিরুদ্ধ ছিল।’

বিকাশরঞ্জনের অবশ্য বক্তব্য, ‘আদালতই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিল, উপাচার্য বা শিক্ষকের কাছে একজন ছাত্রের ক্ষমা চাইতে কোথায় সমস্যা? সে কারণেই আমাকেও বলতে হয়েছে, সমস্যা নেই। মামলার ব্রিফিং আমার জুনিয়ররা নেয়। তাদের কাছে সোমনাথরা যা বলেছেন, আমাকে সেটাই বলতে হয়েছে।’ এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস সোমনাথকেই কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই তৃণমূল ওকে চাপ দিচ্ছিল। সেই চাপেই নতিস্বীকার করল।’

যদিও রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। সোমনাথ বলেন, ‘আমি অন্য কোনও দল করব না। বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে থাকব।’ টিএমসিপি’র রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের খোঁচা, ‘যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান তাঁরা জানেন সিপিএমে থেকে সেটা করা যাবে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *