এই সময়: অভিযোগ দায়েরের পরে কেটে গিয়েছে প্রায় একটা দশক। তার মধ্যে কোচবিহার জেলা দু’ভাগে ভেঙেছে। বদল হয়েছেন বেশ কিছু পুলিশ সুপার। কিন্তু মাদক মামলায় দুই অভিযুক্তকে খুঁজে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কোচবিহার পুলিশ। আদালত একাধিকবার দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তা কার্যকর করা যায়নি। এসব নিয়ে একাধিকবার কোর্টের ধমকও খেতে হয়েছে পুলিশকে। এরমধ্যে বেমালুম হাপিশ মূল মামলার কেস ডায়েরিটিও।

শেষমেশ কেস ডায়েরি ‘হারিয়ে যাওয়া’র ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশে এফআইআর দায়ের করে তদন্তে নেমেছে সিবিআই। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অভিযুক্তকে আশ্রয় দান, অভিযুক্তের কাছ থেকে উৎকোচের বিনিময়ে তথ্যপ্রমাণ গোপনের পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করেছেন তদন্তকারীরা।

সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে একাধিক দুর্নীতি মামলায় তদন্তের ভার সিবিআইকে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি এমন অনেক ক্ষেত্রে যেখানে রাজ্য পুলিশ কোনও অপরাধের সূত্র সন্ধানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানেও সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও মামলার কেস ডায়েরি ‘হারিয়ে যাওয়া’, তাও আবার পুলিশের জিম্মা থেকে—এমন কোনও ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশের নজির বড় একটা নেই বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

মূল মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় মাদক পাচার প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ দায়ের হয় রমেশ আগরওয়াল ও পবন আগরওয়াল নামে দু’জনের বিরুদ্ধে। কোচবিহারের এনডিপিএস আদলতের বিচারক ২০১৫ সালের ২ জুলাই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তাঁদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ মামলাটির শুনানির দিন পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকরই হয়নি।

সেই শুনানিতেই ফের নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যদিও তারপরেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। কোচবিহারের এসপি থেকে শুরু করে দার্জিলিং রেঞ্জের ডিআইজি-র উদ্দেশে আদালত বিভিন্ন সময়ে একাধিক নির্দেশও দিয়েছে এই মামলায়। যদিও তারপরেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। উল্টে মূল কেস ডায়েরিই মিসিং বলে আদালতে জানানো হয়।

এরই মধ্যে ২০১৫ সালে দুই অভিযুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজের জন্য আদালতে আবেদন করে। ২০১৬ সালের ১১ মার্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরেও আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি। গত বছর জুনে মামলাটি জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে ওঠে। আদালত কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় গ্রেপ্তারির নির্দেশ কার্যকর করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। মামলার তদন্তকারী অফিসার যেহেতু মূল কেস ডায়েরি জমা দিতে না পারেননি, এ ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারও রিপোর্ট চাওয়া হয়।

Calcutta High Court : হাইকোর্টের মামলা থেকে সরলেন উধাও শাহজাহান
এসপি আদালতে রিপোর্ট দেন, মামলার তদন্তকারী অফিসার উত্তম শর্মা এবং কনস্টেবল দীপঙ্কর দাসকে শো-কজ় করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশিও হয়েছে। কিন্তু তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালেও দুই অভিযুক্ত মামলা খারিজের আবেদন করেছিলেন। সেখানে তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই আবেদনও খারিজ হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই আবেদনেই পরিষ্কার, অভিযুক্তরা কোচবিহার, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে স্বাধীনভাবে বিচরণ করছেন এবং পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার বদলে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। মামলার তদন্তকারী অফিসার ও এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত অন্য পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version