তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন বাংলায় ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানান হয়নি। পালটা কংগ্রেসের তরফে জয়রাম রমেশের দাবি, এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি ও ইমেইল করেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। আর এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, রাজ্যবাসিকে বলব মুখ্য মিথ্যাবাদী সম্পর্কে সাবধান। ইনসাফ চাও, হক চাও, ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবি কর, অন্যায়ের প্রতিবাদ কর, সঙ্গে সঙ্গে যারা অন্যায়কারী আছে, তারা হামলা করবে, মিথ্যা মামলা করবে। আর যারা ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে, হকের পক্ষে, তারা রাস্তায় নামবে। আরএসএস-এর ইশারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাচছেন অভিষেককে বাঁচানোর জন্য। এটা গোটা দেশের মানুষ বুঝুক, কংগ্রেসও বুঝুক তৃণমূলের ভূমিকা কী! মিছিল করার, মিটিং করার সবার হক আছে, অধিকার আছে, এটাই গণতন্ত্র। কংগ্রেস জনিয়েছে কি জানায়নি সেটা তো কখনওই অজুহাত হতে পারে না। লড়াইটা যদি ন্যায় ও অন্যায়ের হয়, তাহলে কংগ্রেস একদিকে থাকবে, তৃণমূল আর এক দিক থাকবে।’

প্রসঙ্গত আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল একাই লড়বে বলে গত বুধবার জানিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে সেই সময় তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, বাংলায় কংগ্রেসের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা নিয়ে কিছুই জানান হয়নি তাঁকে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের ৪২টা আসনে একাই লড়বে তৃণমূল। জাতীয়স্তরে সিদ্ধান্ত ভোটের পর নেওয়া হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যারে এই মন্তব্যের পরেই চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে। যদিও এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁকে চিঠি দিয়েছিলেন, ইমেইলও করেছিলেন। জয়রাম আরও জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস খুবই সম্মান করে। জয়রামের কথায়, ‘আমরা জানি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সর্বোচ্চ জায়গায় রয়েছে তৃণমূল। তাই বিজেপিকে হারাতে হলে তৃণমূলের সঙ্গে থাকা খুবই জরুরি। তাই আমরা চাই তৃণমূল আসুক এবং ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় অংশ নিক, বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আসুন।’

এদিকে সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে যাচ্ছে তৃণমূলের ‘একলা চলো’র সিদ্ধান্ত ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ইন্ডিয়া জোটকে রক্ষা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা চলাকালীন শিলিগুড়িতে ও বহরমপুরে কংগ্রেসের সভার অনুমতির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেন খাড়গে। দুই শিবিরের মধ্যে তিনি ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করেছেন বলেই সূত্রের খবর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version