উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষা সংক্রান্ত মামলা থেকে তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক উল্লেখযোগ্য নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু, এই মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মামলাটি যায় সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। আর সেখানেই বিচারপতি সৌমেন সেন সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর প্রথমে মৌখিক স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তদন্ত শুরু করতে। পরে অবশ্য ডিভিশন বেঞ্চ লিখিতভাবে স্থগিতাদেশ দেয়। কিন্তু, এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
তিনি সৌমেন সেন প্রসঙ্গে নজিরবিহীন মন্তব্য করেছিলেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সৌমেন সেনের ট্রান্সফার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছিলেন। এরপরেই রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল। আইনজীবী মহলের দাবি ছিল, এক বিচারপতির অন্য বিচারপতি প্রসঙ্গে এই ধরনের মন্তব্য কার্যত নজিরবিহীন। আর এই দুই বিচারপতির সংঘাতের জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
পাঁচ বিচারপতির একটি বিশেষ বেঞ্চ বসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে। এই মামলা সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের সমস্ত নির্দেশে দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ। পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত আগের সমস্ত নির্দেশ খারিজ। আর দুই বিচারপতির এই সংঘাত প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।
তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের অন্যতম বিচারালয়ে এই ঘটনার দীর্ঘ একটি প্রভাব পড়ে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক করা যায় সেই জন্য চেষ্টা করছি। ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটির জন্য লজ্জিত এবং দুঃখিত।’ কারও নাম অবশ্য তিনি উল্লেখ করেননি।
এই ঘটনার পর শিক্ষা সংক্রান্ত মামলাগুলি তাঁর এজলাস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রথম মুখ খুললেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
