দেশের বিভিন্ন স্টেশন আধুনিকীরণের পথে হেঁটেছে রেল কতৃপক্ষ। সেই মর্মে শিয়ালদা নর্থ ডিভিশনের নৈহাটি স্টেশনের হকার উচ্ছেদের কথা জানিয়েছে রেল প্রশাসন। তবে হকারদের দাবি আগে তাঁদের স্থায়ী বসার স্থান দিতে হবে। আর এই পুনর্বাসন ও হকারদের স্থায়ীকরণের দাবিতে নৈহাটি শহর আইএনটিটিইউসির তরফ থেকে এক বিক্ষোভ মিছিলের করা হল স্টেশনে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন নৈহাটি শহর আইএনটিটিইউসি সভাপতির বিষ্ণু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন স্টেশন সংলগ্ন হকাররা। তাঁরা মিছিল করে নৈহাটি স্টেশন ম্যানেজারের কাছে একটি ডেপুটেশনও জমা দেন।

দীর্ঘ বেশ কিছুক্ষণ আলাপ আলোচনা করার পর আইএনটিটিইউসির নেতা বিষ্ণু অধিকারী বলেন,’রেল উন্নয়ন করুক এটা আমরা চাই। কিন্তু হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। হকারদের পুনর্বাসন ও স্থায়ীকরণ করতে হবে।’ দাবি পূরণ না হলে আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিষ্ণু অধিকারী।

বিষ্ণু আরও বলেন, ‘আমরা উন্নতির বিরুদ্ধে নই, উন্নয়বের বিরুদ্ধে নই, আমরা তৃণমূল কংগ্রেস দল করি, আমরা সবসময় উন্নয়নে এগিয়ে। আমরাও চাই নৈহাটি প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন হোক। কিন্তু তার জন্য হাজার হাজার পরিবারের পেটে পাথর ঢুকিয়ে মেরে উন্নয়ন হবে না। এমন উন্নয়ন কি ভালো হবে, যে হকাররা এখানে আত্মহত্যা করবে? এই উন্নয়ন কি রেল বোর্ড চায়? রেলের যাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নৈহাটি স্টেশনে আছেন, কারও ওপর আমাদের ব্যক্তিগত রাগ নেই। আরপিএফ-এর ওপরেও রাগ নেই, স্টেশন মাস্টারের ওপরেও রাগ নেই। আমাদের আন্দোলন লাগাতার চলবে।’

আইএনটিটিইউসি-র এই নেতার সাফ কথা, ‘ডেপুটেশনে আমরা একটাই কথা বলেছি, রেলের সব কথা আমরা শুনবো, কিন্ত আমাদের যতগুলি হকার আছে, তাঁদের স্থায়ীকরণের জন্য, আমরা প্রকিটি হকার রেল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছি। রেল যেমন বলবে, তেমনই দোকান চলবে, কিন্তু নৈহাটিতে স্থায়ী করতে হবে। নয়তো আগামীদিনে লাগামছাড়া আন্দোলন হবে। এখানে একটা দোকানও তোলা যাবে না। এটা ব্যাণ্ডেল নয়, নবদ্বীপ নয়, বন্দেমাতরমের স্রষ্টার মাটি। এত আন্দোলন হবে যে দিল্লি দেখবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগেও নৈহাটি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের কাজ হয়েছে। কখনও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ চলেছে, কখনও সেখানে বসেছে এসকেলটর। এবার আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। আর তার কারণে হকারদের ওঠার কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তারই প্রতিবাদে এবার আন্দোলনে হকাররা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version