এই সময়: পথ নাটিকার মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় সন্দেশখালির ‘ভয়াবহতা’ দেখাবে বিজেপি। লোকসভা ভোট না-মেটা পর্যন্ত সন্দেশখালিকে জিইয়ে রাখতে আপাতত এটাই গেরুয়া শিবিরের কৌশল। তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সন্দেশখালিতে বড়সড় কোনও অশান্তি ঘটেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যাওয়া-আসা কমেছে সেখানে। তবে বিজেপি চাইছে, ভোটে সন্দেশখালিকে প্রাসঙ্গিক রাখতে।ভোটের আগে সন্দেশখালি নিয়ে তাই নাটক লিখেছে বিজেপির সাংস্কৃতিক সেল। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সেই নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি বিধানসভার ১২-১৩টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সন্দেশখালির উপর পথ নাটিকার আয়োজন করবে বিজেপি। দলের সাংস্কৃতিক সেলের কর্মীরা ছাড়াও ২৬টি পেশাদার নাটকের দল এই কর্মসূচিতে সামিল হয়েছে বলেই বিজেপির দাবি।

সন্দেশখালিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বিভিন্ন লোকসভার ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিতেই বিজেপি ‘সন্দেশখালি-নাটক’ দেখাবে বলেই জানা গিয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘সন্দেশখালির ভয়াবহতা দেখে গোটা দেশ হতবাক। বাংলায় এর থেকে বড় নির্বাচনী ইস্যু কিছু হতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী দল হিসেবে আমরা সন্দেশখালিকে ভোটের প্রচারে ব্যবহার করব।’

শুধু তাই নয়, সন্দেশখালির বাসিন্দাদের দিয়েই সেখানকার ‘ভয়াবহতার’ কথাও প্রচার করতে চাইছে বিজেপি। সেক্ষেত্রে ওই এলাকার জমি হারানো বাসিন্দাদের রাজ্যের বিভিন্ন লোকসভায় ভোটের প্রচারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘সন্দেশখালির মতো অত্যাচার রাজ্যের আরও বহু জায়গায় তৃণমূল চালাচ্ছে। ভয় অনেকেই মুখ খুলছেন না। আমরা চাই সন্দেশখালির মানুষ তাঁদের লড়াইয়ের কথা রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় গিয়েও বলুন।’

পথ নাটিকার মাধ্যমে ভোটের প্রচারের দায়িত্ব বিজেপি দিয়েছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। তাঁর কথায়, ‘শুধু সন্দেশখালিই নয়, আরও নানা ঘটনা নিয়ে আমরা নাটক তৈরি করেছি। গার্ডেনরিচও থাকছে সেই তালিকায়। তৃণমূলের তো অপকর্মের শেষ নেই। নাটকের মাধ্যমে আমরা সেই ঘটনাগুলি বাংলার মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছি।’ বিজেপির এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করে তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, ‘মণিপুরে মহিলাদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার হয়েছে। তা নিয়েও তো পথ নাটিকা দেশের মানুষ দেখতে চায়। বিলকিসের ধর্ষকদের কেন ছেড়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে বিজেপি কেন পথ নাটিকা করছে না? দলীয় সাংসদ ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়েও তো বিজেপি পথ নাটিকা করতে পারে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version