Visva Bharati Univeristy,জবরদখল উচ্ছেদের আর্জি জানিয়ে চিঠি বিশ্বভারতীর – visva bharati requested to district magistrate to eviction the kaviguru market


এই সময়, শান্তিনিকেতন: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে উচ্ছেদ অভিযানের মাঝেই দখল হওয়া জমি ফেরত চেয়ে বীরভূমের জেলাশাসককে চিঠি দিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, বিশ্বভারতী ও রাজ্য সরকারের জায়গা দখল করে শান্তিনিকেতনে গড়ে উঠেছে কবিগুরু মার্কেট নামে একটি বাজার৷ এছাড়াও, বিশ্বভারতীর পিয়ার্সন পল্লি সমেত একাধিক জায়গা দখল হয়ে রয়েছে৷বিশ্বভারতীর যুক্তি, এতে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতনের গরিমা ক্ষুণ্ণ ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে৷ বিশ্বভারতীর জমি দখল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ দীর্ঘ দিনের৷ নিজেদের প্রায় দুই দশক ধরে জবরদখল হয়ে থাকা জমি উদ্ধার করতে তৎপর হয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে কাজে লাগাতে সুকৌশলে রাজ্য প্রশাসনের কাছে জমি উদ্ধারের আবেদন করা হয়েছে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে।

জেলাশাসকের পাশাপাশি বোলপুর পুরসভা ও বোলপুর মহকুমাশাসককেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগেও অবশ্য ওই জমি উদ্ধারের জন্য বহুবার চেষ্টা করেছে বিশ্বভারতী। বিশেষত প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জমি পুনরুদ্ধারে অতি সক্রিয় হন। একাধিক ব্যক্তিকে জমি খালি করার নোটিস পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল৷

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমবায় ব্যাঙ্কের সামনে ‘কবিগুরু মার্কেট’ নামে একটি মার্কেট গড়ে উঠেছে৷ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, বিশ্বভারতী ও রাজ্য সরকারের জায়গা দখল করে কবিগুরু মার্কেটে কম করে ৫০টি দোকানঘর গড়ে উঠেছে। বিশ্বভারতীর দাবি, এই মার্কেট তাঁদের জমিতে তৈরি হয়েছে৷ জমি ফেরত পেতে সেই সময় অনশনেও বসেছিলেন তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী৷ যদিও, ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন এই জমি রাজ্য সরকারের৷

এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দিকে দিকে সরকারি জমি জবরদখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে৷ এই সুযোগে জমি ফেরত পেতে এবার বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়কে চিঠি দিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতো৷

বিশ্বভারতী সুকৌশলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতির আবেগকে কাজে লাগিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করেছে — ইউনেস্কোর কাছ থেকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পেয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন৷ সেখানে জবরদখল করে দোকান গড়ে ওঠায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ৷ নষ্ট হচ্ছে সৌন্দর্যায়ন৷ দ্রুত এই জায়গাগুলি খালি করে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে চিঠিতে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিয়ের আবেদন, প্রতিবাদে সরব শিক্ষক সংগঠন

এছাড়া, পিয়ার্সন পল্লি সমেত বেশ কিছু এলাকায় বিশ্বভারতী ও রাজ্য সরকারের জায়গা দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে৷ সেই জবরদখল উচ্ছেদের আর্জি জানিয়েছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ৷ জেলাশাসক ছাড়াও বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ ও বোলপুর মহকুমাশাসক অয়ন নাথকে চিঠি দিয়ে জবরদখল উচ্ছেদের আর্জি জানিয়েছে বিশ্বভারতী৷

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জবরদখল উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিশ্বভারতীও জেলা প্রশাসনকে জবর দখল উচ্ছেদের আর্জি জানিয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *