গত মার্চ মাসে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আদালতের কর্মী হিসেবে স্থায়ী পদে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় রাজ্য। ওই বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই নিয়োগের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য।
এ দিন সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে পুরসভা— সর্বত্র চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী! গোটা দেশে এমনটা কোথাও হয় না। এটা সব সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে।’ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘রাজ্য এ ভাবে স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে রাখতে পারে না। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ কখনও নিয়ম হতে পারে না। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হলো ব্যতিক্রম। রাজ্যে গোটা কর্মশক্তির বেশির ভাগটাই চুক্তিভিত্তিক!’
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘জেলা আদালত থেকে শুরু করে বাকি জায়গায় কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত অসুবিধার মধ্যে পড়ছেন বিচারকরা।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘সবাই চুক্তিভিত্তিক হলে ঠিক বা ভুল কাজের দায় কে নেবে? কোনও নথি হারিয়ে গেলেই বা কে নেবে তার দায়িত্ব?’
আবার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আদালত এও বলে, ‘২৫ বছর ধরে কাজ করছেন, অথচ অবসরের সময়ে তাঁর বেতন মাত্র ২৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা? সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কাজ করছেন, কিন্তু বেতন ১৪ হাজার টাকা! কী ভাবে সম্ভব?’
নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ননিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘হাইকোর্টে দৈনিক চুক্তিতে কাজ করা পূর্ত দপ্তরের কিছু কর্মী আমার কাছে এসেছিলেন ন্যূনতম মজুরি চেয়ে চিঠি দিতে। এটা তাঁদের অধিকার। কিন্তু চিঠির কালি শুকোবার আগেই তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছে ঠিকাদার। কেন হবে এটা?’
