বুধবারের রাত দখল কর্মসূচিতে বারাসতে আন্দোলনকারীদের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে টেনে হিঁচড়ে সরানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। মহিলা ও শিশুদেরও পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় প্রতিবাদীদের। তবে পুলিশের দাবি, তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি। পরিস্থিতি সামলাতে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।রাজ্য জুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন ৮ থেকে ৮০ সব বয়সের নাগরিক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সদর শহর বারাসতেও একই ছবি ধরা পড়েছিল। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত বাড়তেই প্রতিবাদীদের ভিড় নামে রাস্তায়। বারাসতের ডাকবাংলো মোড় এবং কলোনি মোড় এলাকায় মানুষের ভিড়ে একসময় স্তব্ধ হয়ে যায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের যান চলাচল। প্রতিবাদের স্লোগানে তীব্র হয় আন্দোলনের ঝাঁজ।

রাত দখল কর্মসূচির মধ্যেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন! ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে হেনস্থার সেই ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন)। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, পুলিশ টেনে হিঁচড়ে জাতীয় সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীদের। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হচ্ছে।

অভিযোগ, পুলিশ প্রতিবাদীদের সঙ্গে ‘অমানবিক’ আচরণ করেছে। এই ছবি সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজের বিভিন্ন মহলে। পুলিশ কর্তাদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভের কারণে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে পরে। এরপরই, বিক্ষোভকারীদের অবস্থান তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বারাসত জেলা পুলিশ।

কিন্তু আন্দোলনকারীরা পুলিশের প্রস্তাব না মেনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান। গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারাসতের এসডিপিও, থানার ওসি ও পুলিশের বড় বাহিনী। আনা হয় মহিলা পুলিশও। জাতীয় সড়কে আটকে থাকা ট্রাক চালকরাও পুলিশকে জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক করতে। না হলে ট্রাকে থাকা কাঁচা সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

‘রাত দখল’-এর মাঝেই গড়িয়ায় মহিলাকে কটুক্তি, বেধড়ক মারধর অভিযুক্তকে

পুলিশ আন্দোলনকারীদের জানায়, যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তার একদিক খালি করে দিতে। এ নিয়েই পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তি বাধে আন্দোলন কারীদের। আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে টানা হেঁচড়া করে তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। তাতে উত্তেজনা বাড়ে।

পুলিশের অভিযোগ আন্দোলনকারীরা মহিলা পুলিশদের উদ্দেশে কটুক্তি করছিলেন। ঘটনায় পাঁচ মহিলা-সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করে বারাসত থানার পুলিশ। প্রতিবাদে দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার স্পর্শ নীলাঙ্গী জানান, পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version