জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মানুষের অবচেতন মনের জটিল অলিগলি আর অভিনয়ের প্রতি এক সংগ্রামী যুবকের চরম আসক্তি নিয়ে মুক্তি পেল নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সব চরিত্ররা’। পরিচালক দীপ মোদকের এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং মানুষের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা নানা চরিত্রের এক অদ্ভুত বিশ্লেষণ। ছবিতে নাম ভূমিকায় রয়েছেন ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা এবং দেবরাজ।
ছবির মূল কেন্দ্রবিন্দু কুশল দত্ত (ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়), যে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু সংগ্রামী অভিনেতা। দিনের পর দিন পরিচালকের কাছে কাজের জন্য ঘুরে বেড়ানো কুশল নিজের ঘরে বসে ‘জোকার’-এর মতো আইকনিক চরিত্রের সংলাপ আওড়ে রিহার্সাল করে। হঠাৎই তার জীবনে আবির্ভাব ঘটে হৃত্ত্বিক দাশগুপ্ত (দেবরাজ) এবং প্রেমিকা বনি সেনের (প্রিয়াঙ্কা)। হৃত্ত্বিক নিজেকে কাশ্মীরি শাল ব্যবসায়ী বললেও ধীরে ধীরে সে একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে ধরা দেয়। কিন্তু গল্পের আসল মোড় আসে একদম শেষে— যখন দেখা যায় হৃত্ত্বিক, বনি বা অন্যান্য চরিত্ররা আসলে কুশলের অবচেতন মনের কল্পনা! কুশলের এই মানসিক অস্থিরতা তাকে একটি অপরাধের দিকে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার স্থান হয় মানসিক হাসপাতালে। এক চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছবিটির গল্প।
দেবরাজ বলেন, “আমার অভিনীত চরিত্রের নাম ঋত্বিক দাশগুপ্ত। ঋতব্রত এবং প্রিয়াঙ্কা আমার সহ-অভিনেতা, মূলত ওদের সাথে আমার চরিত্রের নানারকম দ্বিধা এই গল্পের অন্যতম বিষয়। ভীষণ মনস্তাত্বিক জটিলতার পরত বোনা রয়েছে এই গল্প এবং তার সকল চরিত্র নির্মাণে। সকল দর্শক বন্ধুদেরকে আমাদের ছবিটি দেখার অনুরোধ রইল”।
ঋতব্রত বলেন, “কুশলের চরিত্রটা এতটাই জটিল, যে তার মন ও মাথাকে বুঝতে বেশ খানিক বেগ পেতে হয়েছে আমায়। তবে সেটাই অভিনেতার আনন্দ। সবটা নিংড়ে দিয়ে কাজ করতে পারলেই ভালো লাগে আর আমার মনে হয় এই ছবির সঙ্গে যুক্ত সবাই সেই ভালোবাসা ও শ্রম দিয়ে গল্পটাকে জীবন্ত করে তুলেছে।”
প্রিয়াঙ্কা এই ছবি সম্পর্কে বলেন, “সব চরিত্ররা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল একটা প্রজেক্ট। এখানে যাঁরা অভিনয় করেছেন, প্রত্যেকেই আমার খুব পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রী, আর তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। দীপ দার পরিচালনায় এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। যখন প্রথম গল্পটা শুনেছিলাম, তখনই দীপ দাকে বলেছিলাম—এটা ভীষণ ইন্টারেস্টিং একটা প্রজেক্ট হতে চলেছে। আর সত্যি বলতে, সেটাই হয়েছে। দর্শক কেউই আগে থেকে বুঝতে পারবে না, গল্পটা আসলে কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে। অনেক দিন ধরে এই কাজটার জন্য অপেক্ষা করেছি। আমার চরিত্রের মধ্যে একটা অদ্ভুত দিক আছে, যেটা আমাকে ভীষণ টেনেছে। পুরো প্রজেক্টটা নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড। আশা করি সবার ভালো লাগবে”।
পরিচালক দীপ মোদক বলেন, “আমার কাছে এই ছবি শুধু একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নয়, বরং মানুষের মনের ভেতরের অদৃশ্য অস্থিরতাকে অন্বেষণের একটি চেষ্টা। আমরা প্রত্যেকে নিজের ভেতরে বহু চরিত্র বহন করি— স্বপ্নদ্রষ্টা, ভীত মানুষ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী সত্তা, আবার কখনও ভেঙে পড়া একাকী মন। সেই বহুস্তরীয় মানসিক অবস্থাকেই এই ছবির মাধ্যমে ধরতে চেয়েছি।গল্পের কেন্দ্রে থাকা একজন সংগ্রামী অভিনেতার যাত্রা আসলে অনেকের বাস্তবতার প্রতিফলন। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে যে চাপ, যে নীরব হতাশা তৈরি হয়, তা কখনও কখনও মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায় যেখানে বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ঝাপসা হয়ে ওঠে। সেই সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলোকেই সিনেমার ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। এই ছবিতে প্রতিটি চরিত্রের উপস্থিতির একটি নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। অভিনয়শিল্পীদের সংযত ও মননশীল পারফরম্যান্স গল্পকে আরও জীবন্ত করেছে। সীমিত পরিসরের মধ্যেও একটি ঘনীভূত অভিজ্ঞতা তৈরি করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আশা করি ‘সব চরিত্ররা’ দর্শকদের শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং কিছু প্রশ্নও ছুঁড়ে দেবে— নিজেদের ভেতরের চরিত্রগুলোকে নিয়ে”।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
