স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুলু উলুবেড়িয়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর সাতমহলের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকে আর পাঁচটা ছেলেমেয়ের মতো পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধূলাও করত বুলু। কিন্তু ভাগ্য তাঁর সঙ্গ দেয়নি। ছ’বছর বয়সে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডান পা বাদ পড়ে বুলুর। তারপর থেকে শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। ছ’বছরের একটি শিশুর জীবনে সঙ্গে জড়িয়ে যায় ক্রাচ। কঠোর লড়াই করে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৯৬ সালে উলুবেড়িয়া জগৎপুর আনন্দ ভবন ডেফ এন্ড ব্লাইন্ড স্কুলে রিডার হিসাবে কাজে যোগ দেন বুলু।
করোনা অতিমারি শুরু সময় যখন চারিদিকে অসংখ্য মানুষ অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ডেফ অ্যান্ড ডাম্ব স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন বুলু। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজে কর্মক্ষেত্রে অসাধারন দক্ষতা ও সমাজসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্য সরকারে বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন বুল। পুরস্কার পাওয়ায় খুশি বুল জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি চলার পথে তাঁর অনুপ্রেরণা।
অন্যদিকে মাত্র চার বছর বয়স থেকে ইত্তেশামার খাতুনের অভিভাবকরা লক্ষ্য করে তাদের মেয়ের বেশি কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। আর পাঁচটা শিশুর মতো সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না, এমনকী ভাল করে শুনতেও পায় না। ইত্তেশামার বেশ কিছু মানসিক সমস্যাও ছিল। ১২ বছর বয়সে তাঁকে আশা সেন্টার নিয়ে আসেন তাঁর অভিভাবকরা। সেখানে তাঁর চিকিৎসার পাশাপাশি চলতে থাকে পড়াশুনা। সেখানেই শুরু হয় ফুটবল প্রশিক্ষণ। নিয়মিত চলতে থাকে প্রশিক্ষণ। একের পর এক ম্যাচে ইত্তেশামার পারফরম্যান্স সকলের নজর কেড়েছিল। চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান প্রদেশের ডেট্রয়েট শহরে স্পেশাল অলিম্পিক ইউনিফায়েড ফুটবল কাপ ২০২২ প্রতিযোগিতায় ভারতের মহিলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক হিসাবে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে ইত্তেশামা। সেই কারণে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আশা ভবন সেন্টারের কর্ণধান জন মেরিকে এই পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন ইত্তেশামা।
