Kartik Puja 2022 : তীর-ধনুকের সঙ্গে কোমরে ঝোলে ঢাল-তরবারি, গোলাবাগানে কার্তিক পুজোর ইতিহাস জানেন? – kartik puja of chuchura golbagan has a unique history


West Bengal News যোদ্ধার কোমরে ঢাল-তরবারি বাঁধা না থাকলে হয়! দেব সেনাপতি বলে কথা। এক ব্রিটিশ কমিশনারের এই উপলব্ধি বদলে দিয়েছিল হুগলি (Hooghly) জেলার চুঁচুড়া (Chinsurah) গোলাবাগানের কার্তিক পুজোর (Golabagan Kartik Puja) ইতিহাস। ১৫ ফুট উচ্চতার দেব মূর্তির কোমরে আজও ঝোলান হয় কমিশনারের দেওয়া উপহার। কার্তিকের অস্ত্র সজ্জায় যুক্ত হয় আরও দুই উপকরণ, একটি ঢাল ও এক তরবারি।

Kartik Puja 2022: মা পার্বতীর মন রাখতেই কি চিরকুমার দেব সেনাপতি কার্তিক? জানুন অজানা কাহিনি
দেব সেনাপতিকে দেওয়া ব্রিটিশ কমিশনারের ঢাল তরবারি আজও স্বযত্নে রাখা রয়েছে চুঁচুড়া (Chuchura) গোলাবাগানে। প্রতি বছর পুজোয় ঝারপোছ করে বাঁধা হয় সেনাপতির কোমড়ে। বর্তমান প্রজন্মের সঠিক সালটা মনে না থাকলেও আনুমানিক একশো বছর আগে পাড়ায় কার্তিক পুজো (Kartik Puja 2022) দেখতে এসে তৎকালীন বর্ধমান ডিভিশনের ব্রিটিশ কমিশনার তাঁর ঢাল ও তরবারি উপহার দিয়েছিলেন। ১৭১ বছর ধরে কার্তিক পুজো হয়ে আসছে চুঁচুড়া গোলাবাগানে। ১৫ ফুট উচ্চতার ‘লড়াই কার্তিক’ চুঁচুড়া শহরে সর্বজনবিদিত। এমনিতে হুগলি সদর চুঁচুড়া শহরে শতাধিক কার্তিক পুজো হয়। ব্রিটিশ আমলে পুজোর সংখ্যা এত ছিল না। গোলাবাগান, ঠাকুরগলি, কামারপাড়া, কনকশালী, পঞ্চাননতলা, ষন্ডেশ্বরতলায় খুব জাঁকজমক করে পুজো হত। তখন পাড়ায় পাড়ায় গ্যাসের বাতি জ্বেলে কার্তিকের শোভাযাত্রা হত। রাত জেগে সেই যাত্রা উপভোগ করতেন সাধারণ মানুষ।

Kartik Puja 2022 : হাতে বাকি কয়েকটা দিন, কার্তিক পুজোর জবন্য ব্যস্ততা তুঙ্গে বাঁকুড়ার মৃৎশিল্পীদের
বর্ধমান (Bardhaman) ডিভিশনের একটি দফতর ছিল চুঁচুড়া গঙ্গার পারে। কমিশনারের সেই বাংলো এখনও রয়েছে। পুজো কমিটির বয়স্ক সদস্যরা বলেন, “তাঁরা পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছেন, কার্তিকের হাতে তীর-ধনুক আছে, কিন্তু তরবারি নেই দেখে কমিশনার বলেন যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি লড়াই করছে, কোমরে তরবারি না থাকলে হয়। এরপর নিজের একটি ঢাল ও তরবারি দিয়ে দেন। সেই থেকে কার্তিকে সাজ সজ্জার সঙ্গে ঢাল তরবারি থাকে। এত বছর পরেও অক্ষত আছে সেই অস্ত্র। শুধু বছর বছর রঙ করা হয়।”

Hooghly News : ২০ দিন পর বাড়ি ফিরেই ‘মাথা খারাপ’! পুজোর পর থেকেই শেকলবন্দি জীবন কার্তিকের
গোলাগাবানের সম্পাদক গোরাচাঁদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা শুনেছি কার্তিক দেখতে এসে ব্রিটিশ কমিশনার বলেছিলেন ‘লড়াই কার্তিক’ তাঁর হাতে একটা তরবারি থাকবে না! তিনি ঢাল তরবারি দান করেন। ষোড়শ উপাচারে পুজো হয় প্রতি বছর। শোভাযাত্রা বের হয় নিয়ম অনুসারে।” পুজো কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য শম্ভুনাথ দে বলেন, “গোলবাগানের কার্তিক বহু প্রাচীন। সে সময় দুর্গা পুজোর প্রচলন হয়নি শহরে। কার্তিক পুজোই ছিল সর্বজনীন উৎসব। দু’দিন ধরে পুজো, তারপর শোভাযাত্রা। আমরা বলি কার্তিক লড়াই। তবে চুঁচুড়া শহরের রাস্তা অলি-গলি অপ্রশস্ত হওয়ায় সেই শোভাযাত্রার লড়াই আর চন্দননগরের মত বড় হয়নি। তবে ঐতিহ্য মেনে গোলাবাগানের পুজো হয়ে আসছে। শোভাযাত্রায় কার্তিকের হাত থেকে অগ্নিবাণ বের হয় আজও।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *