Sampadakiyo

রাজ্যের জনসাধারণ আশ্চর্য্য হইয়া গিয়াছে, এমন আশ্চর্য্য ঘটনা বিভিন্ন বিরল ঘটনার মধ্যে বিরলতম৷ এমটা যে ঘটিবে রাজ্যের জনগণ কস্মিনকালেও ভাবেন নাই৷ শেষ বার এমন ঘটনা দেখা গিয়াছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে৷ কংগ্রেসের কর্তাভজা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সম্যক প্রশংসায় তিনি পঞ্চমুখ হইয়া উঠিতেন৷ তাহার পর হইতে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে বিরোধী সরকার স্থাপিত হইয়া আসিতেছে৷  ফল স্বরূপ কেন্দ্র রাজ্যকে, রাজ্য কেন্দ্রকে সারা বৎসরভর গন্ডদেশ ফাটাইয়া গাল পাড়িয়া থাকে৷ এইধারাই চলিয়া আসিতেছিল৷ কিন্তু, হঠাৎ করিয়া এমন আশ্চর্য্যজনক ঘটনা ঘটিবে রাজ্যের জনগণ স্বপ্ণেও ভাবেন নাই!

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অহর্নিশ সমালোচনা করিতে অভ্যস্থ হওয়া সত্ত্বেও, কোন ভোজবাজির ফলে হঠাৎ করিয়া প্রধানমন্ত্রীকে শুদ্ধ, বুদ্ধ, পবিত্র ও নির্দোষ প্রমাণ করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিলেন, রাজনীতির সেই কঠিনতম অঙ্ক দেশের মানুষ বুঝিয়া উঠিতে না পারিয়া গলদঘর্ম হইতেছে! শুভংকরী ধাঁধা লাগিয়া গিয়াছে!  অমিত শাহ সহ বিজেপির দোর্দন্ডপ্রতাপ একগুচ্ছ কর্তাব্যক্তিদের অপরিষ্কার প্রমাণ করিয়া, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে কেন ‘অতি পরিষ্কার ব্যক্তি’র মর্যাদা দান করিতেছেন, তাহা কেহই বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছেনা৷

আসল কারণ খুঁজিতে গিয়া অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা গিয়াছে, সম্মুখেই চবিবশ সালের কেন্দ্রীয় ভোট৷ ভোট বড় বালাই! মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এক অলিখিত সম্পর্ক স্থাপন হইয়াছে! উভয় উভয়কে আপন আপন কুর্শিতে বরাবরের মতো চাহিতেছেন৷ তাহারই ফলস্বরূপ রাজ্যের ভোটের আগে কিছু নাটক, কিছু প্রহসন, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা অভিনীত হইয়া থাকে৷ যাহাতে মুখ্যমন্ত্রীর পালে বিদ্যুৎ বেগে ছুটিয়া আসা হাওয়া আমফান, সুনামির মতো বহিয়া যায়৷ পুনরায়, কেন্দ্রীয় ভোটের আগে ওই একই উপায়ে অভিনয় ও অতি অভিনয় চলিতে থাকে৷ যাহাতে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের দিকে ভোটের হাওয়া টর্নেডোর মতো, প্রচন্ড গতিতে উথাল পাথাল করিতে করিতে ধাবিত হয়৷

দেশের জনগণ এক্ষেত্রে গর্দ্ধভের রূপ পরিগ্রহ করিয়া ‘এ আবার কিরূপ হইল’ ‘কেমন হইল’ ‘এমনতো হওয়ার কথা ছিল না’ ভাবিতে ভাবিতে, ঢুলিতে ঢুলিতে কালাতিপাত করিতে থাকে৷ এইবার সেই ধারা অবলম্বন করিয়া যাহাতে চবিবশ সালের ভোটটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যায়, তাহারই অভিনয় চলিতেছে৷

 নাটকের প্রথম অঙ্কে ‘চট্টোপাধ্যায়’ মহাশয়কে তস্কর প্রমাণ করিয়া ও কোটিতে কোটিতে নোটের বান্ডিল উদ্ধার করিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরিষ্কার ব্যক্তি’ বলিয়া প্রমাণ করিয়া, ক্রমে ক্রমে চবিবশের ভোট গুটি গুটি পায়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের দিকেই ধাবিত হইতেছে৷ ইহা মোটেও অলীক কুনাট্য রঙ্গ নহে৷ বরঞ্চ ইহাকে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পান্ডুলিপি’ বলা যাইতে পারে৷ এমন অভিনয় এখন চলিতেই থাকিবে৷ চবিবশ সালের ভোট শেষ হইয়া গেলে, ‘চট্টোপাধ্যায় মহাশয়’ নাটকের পান্ডুলিপি অনুসারে ‘ধোয়া তুলসী পাতা’ প্রমাণিত হইবেন এবং যথারীতি তিনি এবং তার দল যে নির্দোষ তাহাও প্রমাণিত হইবে৷ কারণ তাহার পরে নাটকের পান্ডুলিপি অনুসারে পুনরায় হাওয়া ত মুখ্যমন্ত্রী ও তাহার দলের দিকে ধাবিত হইতে থাকিবে!— দেশের জনগণ তখন আবার পুনরায় হতবাক হইবেন, তাহাতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই৷

‘সত্য সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ!’

অলমিতি বিস্তারেণ!