Baruipur Murder Case : জঙ্গলে দেহ খাবে শিয়ালে, আশা ছিল মা-ছেলের – baruipur former naval officer murder case revealed unknown things


Produced by Suman Majhi | Ei Samay | Updated: 21 Nov 2022, 12:32 pm

বারুইপুরে প্রাক্তন নৌসেনা কর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই হাড় হিম করা তথ্য উঠে এলো। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাড়িতেই রাখা করাত দিয়েই উজ্জ্বলের দেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টা তিনেকের প্রচেষ্টায় ছ’টি টুকরো করে ফেলেছিলেন জয়। মা-ছেলের আশা ছিল, টুকরো টুকরো দেহাংশ শেয়ালে খেয়ে ফেললে উজ্জ্বলের খুনের সমস্ত চিহ্নই লোপাট হয়ে যাবে।

 

Baruipur Murder Case
বারুইপুর

হাইলাইটস

  • বারুইপুরে প্রাক্তন নৌসেনা কর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই হাড় হিম করা তথ্য উঠে এলো।
  • মদ্যপ বাবার নিত্য অত্যাচারে তিতিবিরক্ত হয়ে উত্তেজনার বশে খুন করে ফেলেছিলেন তরুণ।
  • পাড়াপড়শিরা যাতে টের না পায় তাই অত্যন্ত সন্তর্পণে গোটা কাজটি সারেন মা ও ছেলে।
  • মা-ছেলের আশা ছিল, টুকরো টুকরো দেহাংশ শেয়ালে খেয়ে ফেললে উজ্জ্বলের খুনের সমস্ত চিহ্নই লোপাট হয়ে যাবে।
এই সময়, বারুইপুর: মদ্যপ বাবার নিত্য অত্যাচারে তিতিবিরক্ত হয়ে উত্তেজনার বশে খুন করে ফেলেছিলেন তরুণ। কিন্তু সাময়িক উত্তেজনার সেই পর্ব কাটিয়ে উঠে পরের অংশটা ছিল ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। ঘণ্টা তিনেক ধরে বাড়ির বাথরুমে মৃতদেহটি টুকরো টুকরো করে কাটার ব্যাপারে আইটিআই পাশ ছেলেকে সমানতালে সঙ্গ দিয়ে যান মা। বারুইপুরে প্রাক্তন নৌসেনা কর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে (৫৫) খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই হাড় হিম করা তথ্য উঠে এলো।পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তেজনার বশে খুন করলেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাড়িতেই রাখা করাত দিয়েই উজ্জ্বলের দেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টা তিনেকের প্রচেষ্টায় ছ’টি টুকরো করে ফেলেছিলেন জয়। ছেলেকে সেই কাজে সাহায্য করেন উজ্জ্বলের স্ত্রী শ্যামলী। পাড়াপড়শিরা যাতে টের না পায় তাই অত্যন্ত সন্তর্পণে গোটা কাজটি সারেন মা ও ছেলে। তার পর শীতের রাতের সুযোগ নিয়ে সেই দেহাংশ বাড়ি থেকে ৭০০ মিটার দূরে ডিহিমদনমল্ল এলাকার পুকুর এবং ঝোপ ঝাড়ে ফেলে দিয়েছিলেন জয়। ওই এলাকায় জঙ্গলের পাশাপাশি রয়েছে শিয়ালেরও উৎপাত। মা-ছেলের আশা ছিল, টুকরো টুকরো দেহাংশ শেয়ালে খেয়ে ফেললে উজ্জ্বলের খুনের সমস্ত চিহ্নই লোপাট হয়ে যাবে।

Ujjal Chakraborty Murder Case: বারুইপুরে নৌসেনা কর্মীর টুকরো হয়ে যাওয়া কোমরের অংশের হদিশ! অভিযুক্তের স্ত্রীর ‘বয়ানে’ চাঞ্চল্য
কিন্তু তাদের সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায় ঘটনার দিন দুয়েকের মধ্যেই দেহ উদ্ধার হয়ে পড়ায়। পাশাপাশি বারুইপুর থানার পুলিশ ও বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের গোয়েন্দাদের তৎপরতায় অপেশাদার জয় ও শ্যামলী ধরা পড়ে যান দ্রুত। খুনের পর নিজেদের উপর থেকে সন্দেহ স্বামীর নিখোঁজের ডায়েরি করেন শ্যামলী। কিন্তু গোড়া থেকেই জয়ের কিছু কথাবার্তায় অসঙ্গতি পায় পুলিশ। পাশাপাশি নিজের একটি মোবাইল নম্বর গোপন করাও কাল হয়ে যায় ওই যুবকের।

Baruipur Murder Case : শ্রদ্ধা খুনের ছায়া বারুইপুরে, প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীর দেহ ৬ টুকরো করে শ্রীঘরে স্ত্রী-পুত্র
রবিবার থানা থেকে জয়কে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে আসা হয় হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিহিমদনমল্লে। এখানেই পুকুর ও ঝোপঝাড়ে উজ্জ্বলের দেহের খণ্ডাংশগুলি ফেলে দেন জয়। স্থানীয় বাসিন্দা অলক মুখোপাধ্যায়ের পুকুরের জলে দু’জন ডুবুরিকে নামানো হয় দেহটি কাটার কাজে ব্যবহৃত করাতের খোঁজে। কিন্তু গভীর পুকুরটি থেকে এ দিন করাতটি উদ্ধার করা যায়নি। এর পরই জয় ইঙ্গিত করে পাশের জঙ্গলটির দিকে। তার ইঙ্গিত অনুযায়ী শিয়ালের আস্তানা বলে পরিচিত সেই জঙ্গল থেকেই উদ্ধার হয় উজ্জ্বলের কোমরের নীচের অংশটি। যদিও এখনও মেলেনি তার দু’টি কাটা হাত।

Baruipur Murder Case : ‘ছেলেকে মানুষ মারার প্রশিক্ষণ দিতেন…’, নৌসেনা কর্মী খুনের ঘটনায় বিস্ফোরক প্রতিবেশীরা
ধৃত দু’জনকে এ দিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার ফের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো হবে। পুকুরের জল থেকে করাতটি উদ্ধারের জন্য প্রশিক্ষিত ডুবুরি নামানো হতে পারে। প্রয়োজনে চুম্বকও ব্যবহার করা হতে পারে। গোটা ঘটনায় হতবাক প্রান্তিক আবাসনের আবাসিকরা।

আশপাশের শহরের খবর

Eisamay News App: আশপাশের তাজা ও গুরুত্বপূর্ণ খবর বাংলায় পড়তে ডাউনলোড করুন এই সময় অ্যাপ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *