মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে বহরমপুরের (Berhampore) সাংসদ বলেন, “তৃণমূল নতুন দূরভিসন্ধি করছে। বেআইনিভাবে এই ঝালদা পুরসভার মাথায় প্রশাসক (Administrator) বসিয়ে, এই পুরসভা যাতে সরকারি দলের হাতে থাকে, তার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গণতন্ত্রকে এভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হলে কংগ্রেস সারা বাংলা জুড়ে আন্দোলন করবে।” প্রসঙ্গত, সোমবার দুই নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থন পেয়ে ঝালদা পুরসভায় আস্থা ভোট জয়ী হয় কংগ্রেস। পুরসভার আস্থাভোটে হাজির ছিলেন না শাসকদলের কোনও কাউন্সিলর। গত মাসে ঝালদার পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন বিরোধীরা। ১২ আসনের পুরসভার পাঁচ কংগ্রেস কাউন্সিলর এবং এক জন নির্দল কাউন্সিলর (মোট ছ’জন) অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। এর মধ্যেই তৃণমূল ছাড়েন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শীলা চট্টোপাধ্যায়। যিনি নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এরপরেই আস্থা ভোট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। সাতটি আসনের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গঠন করতে চলেছে কংগ্রেস।
কিন্তু, আস্থা ভোট উপস্থিত না থাকলেও সুকৌশলে পুরসভার মাথায় ‘প্রশাসক’ বসিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন প্রদেশ সভাপতি। তৃণমূলের অভিসন্ধির কথা তুলে ধরতে গিয়ে তপন কান্দু হত্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “তপন কান্দু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এতটাই জনপ্রিয় যে তিনি জিতেছেন, পরে তাঁর সহধর্মিনী জয়লাভ করেছেন। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে ঝালদা পুরসভা দখল করার জন্য। সংখ্যায় হচ্ছিল না, সংখ্যা কমিয়ে দাও। সংখ্যা কমাতে গলা কেটে নাও। তবুও পারে নি রাখা করতে।”
প্রসঙ্গত, গত পুর নির্বাচনের পরেই খুন হন ঝালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। সেই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্য। কংগ্রেস কাউন্সিলর খুনে তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিল কংগ্রেস। সেই ঘটনার তদন্তভার পরবর্তীকালে CBI-র হাতে চলে যায়। পুরসভা দখলের পর ঝালদা শহরে কার্যত বিজয় মিছিল করে কংগ্রেস। এমনকী, কংগ্রেসের নিহত কাউন্সিলর তপন কান্দুর নামে স্লোগানও দেয় তারা।
