Purba Medinipur : বিয়ের পিঁড়িতে ‘বড়ি’ যুগল! টোপরের বদলে দুর্বা, ঘোমটার বদলে তুলসি পাতা – tradition bori biye festival organised in mahishadal mollick family


West Bengal News মল্লিক বাড়িতে বিয়ের আসর৷ হইহই রব৷ না কলকাতার মল্লিক বাড়ি নয়, এটি মহিষাদলে৷ কিন্তু বিয়েতে পাত্র-পাত্রী কই! চোখটা নীচের দিকে নামতেই দেখা মিলল পাত্র ও পাত্রীর৷ বড়ির পাত্র-পাত্রী৷ হাজির বরপক্ষ আর কন্যাযাত্রীও৷ বড়িরও বিয়ে হয়। এই অগ্রহায়ণেই হয় সেই বড়ির বিয়ে (Badi Marriage)। প্রায় পুতুল বিয়ের মতো বড়ি দিয়ে তৈরি হয় বর-বউ। তুলসিপাতায় হয় বউয়ের ঘোমটা৷ আর বরের টোপর হয় দুর্বা দিয়ে। সিঁদুর দিয়ে সাজানো হয় কনে বড়িকে। বর ও কন্যাযাত্রীর প্রতীক পাশে আরও ছোট ছোট বড়ি থাকে। বর বড়ির আকার অবশ্য অন্যগুলির চেয়ে বড়। তিথি, নক্ষত্র পালটাতে থাকলেও বদলায় না বড়ির বিয়ের দিন৷ প্রতি বছর অগ্রহায়ণের প্রথম বৃহস্পতিবারই হয় এই অতি প্রাচীন বড়ির বিয়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের (East Medinipur) মহিষাদলে (Mahishadal) এখনও চালু রয়েছে সেই প্রথা।

Chattisgarh Tribal Marriage Rituals: বিয়ের আসরে উল্টো দিকে সাত পাক ঘোরে বর-বউ! জানুন আজব গাঁয়ের আজব প্রথা
অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার (Thursday) বাড়ির শুভ কাজ শুরু করার আগে বড়ির বিয়ে দেওয়ার প্রচলন আজও রয়েছে গ্রামাঞ্চলে। প্রাচীনকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি মহিষাদলে এখনও সেই রীতি মেনে বড়ির বিয়ে দেওয়া হয়। মহিষাদলের তেরপেখ্যা গ্রামে মল্লিক বাড়িতে ধরা পড়ল সেই বিয়ের ছবি। সকাল থেকে পরিবারের মেয়েরা উপোস থেকে বিউলির ডাল ভিজিয়ে রেখে তাকে বেটে বড়ি তৈরি করেন। তা দিয়ে হয় বিয়ের আসর৷ তবে বিয়েতে কোনও মন্ত্রোচারিত হয় না৷ লাগে না পুরোহিতও৷ বাড়ির বউরা নতুন শাড়ি পরে বিয়ে দেন। ঘটা করে বীয়ের রীতি মেনেই বড়ির বিয়ে দেওয়া হলেও, কারণ আজও মহিষাদল রাজবংশের স্বর্ণকার মল্লিক পরিবারের কাছে অজানা।

Purba Midnapore: চুলের ব্যবসায়ী জামাইয়ের সঙ্গে ঘর ছাড়লেন শাশুড়ি, সঙ্গে নিলেন লেপ-মশারি-গয়নাও
মল্লিক পরিবারের গৃহকর্ত্রী মণিকা মল্লিকের কথায়, বিয়ের পর এ বাড়িতে আসা ইস্তক এই অনুষ্ঠান দেখে আসছেন তিনি। আগে তাঁর শাশুড়ি বড়ির বিয়ে দিতেন। সেই প্রথা মেনে এখন তিনি দেন। তিনি বলে চলেন, বড়ির বর, কনে তৈরি করার জন্য নতুন বিউলির ডাল প্রথমে বেটে ভালো করে ফেটিয়ে একটি পাথরের উপর বা পরিষ্কার কোনও জায়গায় বড়ি দেওয়াই নিয়ম। আসলে অগ্রহায়ণ থেকে তো বিয়ে, নবান্ন ইত্যাদি নানা অনুষ্ঠানের সূচনা। তাই হয়তো বড়ির বিয়ে দিয়ে বড়ি বানানোর শুভ কাজ শুরু করার প্রথা এটা। প্রচলিত ধারণা হল, বড়ির বিয়ে দিলে পরিবারের সবার কল্যাণ হবে। কেন, কবে, কে এই রীতি চালু করেছিলেন, তা জানেন না তিনি। পরম্পরা ধরে এই অনুষ্ঠান হয়ে আসছে।

Kartik Puja : মালদায় ধূমধাম করে পূজিত ছয় মাথার কার্তিক, জানুন ষড়ানন পুজোর ইতিহাস
এখন মণিকা দেবীর সঙ্গে বড়ির কাজে হাত লাগাচ্ছেন পরিবারের নতুন বউমা পুষ্পিতা রায় মল্লিক। তিনি বলেন, “এই বাড়িতে আসার পর বড়ির বিয়ের বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারের লোকজন বড়ির বিয়ের আয়োজন করছিলেন, আমি তাঁদের সাহায্য করেছি।” প্রাচীন এই ধরনের রীতি এখনও মেনে চলা হচ্ছে এবং তাতে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি৷ অনেকেই বলছেন, নানান ভিনদেশি খাবারের মধ্যে বড়ির স্বাদ ভুলতে বসা বাঙালির জীবনে এই বিয়ে বাংলায় এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখলে মন্দ কী?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *