
ফের শিশু নিখোঁজের ঘটনা রাজ্যে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ বাড়ির সামনে খেলতে খেলতেই হঠাৎ নিখোঁজ (Child Missing) হয়ে যায় বছর পাঁচেকের অরণ্য মাঝি। কাছেপিঠে কোথাও গিয়েছে বলে অনুমান করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সময় চলে যাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বাড়ির আশেপাশে সমস্ত জায়গায় খোঁজ চালিয়েও কোন খোঁজ না মেলায় বুধবার বিকেলেই গুড়গুড়িপাল থানায় (Gurguripal Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় পরিবারের তরফে। পরিবারের প্রাথমিক অনুমান, অপহরণ করা হয়েছে শিশুকে।
ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত নেমেছে গুরগুরিপাল থানার পুলিশ। পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR)। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেল এখনও পর্যন্ত শিশুটির কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের কাছে কোনও হুমকি ফোন আসেনি বলেও জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। দু’দিন কেটে গেলেও শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ায় রীতিমতো উৎকণ্ঠায় রয়েছে গোটা পরিবার। শুক্রবার সকালে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন গোটা পরিবারের সদস্যরা। শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা জুড়েও।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ বলেন, “বাচ্চাটা বাড়ির সামনেই খেলাধূলা করতো। কীভাবে ওকে কেউ তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে বোঝা যায়নি। আমরা এলাকায় নদী, নালা, পুকুর, জঙ্গল সর্বত্র খুঁজে দেখেছি কিন্তু পাওয়া যায়নি। তারপরেই আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হই। পুলিশ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি।” বাচ্চাটির মা বলেন, “আমি কিছুক্ষণের জন্য স্নান করতে গিয়েছিলাম। ও বাড়ির সামনেই খেলা করছিল। দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে কোথায় চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। পুলিশকে তো জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনও খবর দেয়নি।” দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসে দুদিন নিখোঁজ থাকার পর প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয় এক ৫ বছরের শিশুর দেহ। এই ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতন (Santiniketan ) সংলগ্ন মোলডাঙায় এলাকা। শিশুটিকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল তার পরিবারের। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। মৃত বালকের নাম শিবম ঠাকুর। শান্তিনিকেতনের (Santiniketan) মোলডাঙা এলাকার বাসিন্দা ৫ বছরের শিবম এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ছাত্র ছিল।
