রবিবার মালদার (Malda) রতুয়ায় পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা সভা থেকে সাবিত্রী মিত্র বলেন, “হাথরসে যে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করলেন, তার কী অবস্থা? মৃতদেহ তার মাকে দেখতে দিলেন না। DM, SP দাঁড়িয়ে থেকে মৃতদেহ পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দিল। এইরকম ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের এখানে থাকলে, আমি সাবিত্রী মিত্র বলছি তাঁকে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিতাম।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ১৯ বছরের তরুণীকে গণধর্ষণের পর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। দু’সপ্তাহ পর ওই তরুণী দিল্লির হাসপাতালে মারা যান। দিল্লি থেকে হাথরসে মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে মধ্যরাতে দাহ করে দেয় পুলিশ।
সাবিত্রী মিত্র ছাড়াও এই সভা থেকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়িয়ে মালদা জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জিভ টেনে ছিড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন৷ এদিন হুমায়ন কবীর বলেন, “যে মায়ের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে, সেই মাকে গালি দিচ্ছে। আমি যদি দেখতে পেতাম, তাহলে জিভ ছিঁড়ে নিতাম দালাল পার্টিদের। এরপর তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে উলটোপালটা কথা বলে, তাহলে জিভ ছিঁড়ে নেব।”
এনিয়ে অবশ্য চুপ করে নেই BJPও৷ রাজ্য BJP-র যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য অভিষেক মিশ্র বলেন, “রতুয়ার কাহালায় তৃণমূলে জনসভায় যে DM, SP কে পুড়িয়ে মারবেন, জিভ টেনে নেবেন বলেছেন, এরকম অশ্লীল কথাবার্তা তাদের মুখেই মানায়। রাজনীতিতে এরকম কথাবার্তা চলে না। মতোবিরোধ থাকতেই পারে। এইরকম কথাবার্তা যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। ডিসেম্বর মাসের পর দলটা থাকবে কিনা সেটা আগে দেখুন, তারপর এদের কথা গুরুত্ব দেবেন।”
রবিবাসরীয় রতুয়ার এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী গোলাম রাব্বানি এবং সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। যদিও বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে সাবিত্রী মিত্র এবং হুমায়ুন কবীরকে৷ দুয়ারে পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ তার আগে যুযুধান দুই পক্ষ তৃণমূল এবং BJP একে অপরকে কটাক্ষ করতে মাঠে নেমে পড়েছে৷ আর এনিয়ে বারবারই তপ্ত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের মাটি৷
