ইটভাটার খাদের জলে ডুবে মৃত্যু হল দুই শিশুর। মর্মান্তিক ঘটনা মালদার চাঁচল থানার দক্ষিণ হারোহাজরা গ্রামে। মৃত দুই শিশুর নাম তাসমিরা খাতুন ও আনিমুল হক। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জলে ভাসমান দুই শিশুকে উদ্ধার করে চাঁচল সুপার স্পেশাল্যাটি হাসপাতালে (Chanchal Super Speciality Hospital) নিয়ে যাওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসকরা দুই শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

হাইলাইটস
- মর্মান্তিক ঘটনা মালদার চাঁচল থানার দক্ষিণ হারোহাজরা গ্রামে।
- ইটভাটার খাদের জলে ডুবে মৃত্যু হল দুই শিশুর।
- মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটা লাগোয়া এলাকায় কয়েকটি পরিবার বাস করে। মৃত শিশুদের পরিবার দুটি ওই গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তারা ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মৃত ওই দুই শিশুর বাবা ইটভাটায় কাজ করছিলেন। এদিন দুপুরে মা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় পাড়ার অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে ওই দুই শিশু ইটভাটার জল ভর্তি খাদের কাছে চলে আসে। এরপর অতর্কিতে সেই খাদে তারা গড়িয়ে পড়ে যায়।
বাকি অন্যান্য শিশুরা বিষয়টি খেয়াল করে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে। তাদের মাধ্যমে ঘটনাটির কথা জানতে পেরে পরিবারের লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার লোকেরা সেখান ছুটে আসেন। এরপর ওই দুই শিশুকে খাদের জলে ভেসে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের পরিবারের লোকজন সহ স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে দেহ দুটি উদ্ধার করে চাঁচলের সুপার স্পেশাল্যাটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে। মৃতদের পরিবারের দাবি, ইটভাটা ধরেই আমাদের বসবাস। ভাটা কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর করুক। সীমানা প্রাচীর বা বেড়া থাকলে এই অঘটন ঘটত না বলে পরিবারের দাবি।
মৃত শিশুর এক আত্মীয় মানসুরা খাতুন বলেন, “আমরা মহিলারা তখন সবাই রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বাচ্চাগুলো খাদের ধরে খেলাধূলা করছিল। এই সময় দুটো বাচ্চা জলে পড়ে যায়। আমাদেরকে এসে বাকি বাচ্চাগুলো জানায়। আমরা গিয়ে দেখি ততক্ষণে বাচ্চাগুলো জলে ভাসছে। ওদেরকে উঠিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খাদের ধারে তো বেড়া দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। না হলে এরকম হতো না।” মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গোটা ঘটনায় ইটভাটার মালিক কর্তৃপক্ষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
আশপাশের শহরের খবর
Eisamay News App: আশপাশের তাজা ও গুরুত্বপূর্ণ খবর বাংলায় পড়তে ডাউনলোড করুন এই সময় অ্যাপ