গতকালই ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) লাইট হাউস মাঠে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই মাসেই এখানে ফের আসব। এবার সঙ্গে করে এক গাড়ি লাড্ডু নিয়ে আসব। জগন্নাথ বলেছেন, কারণ বলা যাবে না। তাই কেন লাড্ডু আনব তা বলছি না। লাড্ডু নিয়ে আসব। এই মাসেই আসব।” দিলীপের বচনেও ‘মুখ মিষ্টি’ করানোর কথা। দিলীপ বলেন, “খেলা হচ্ছে তো। ডিসেম্বর আসুক দেখতে পাবেন। মোয়া হবে, নলেন গুড় হবে এসব হবে।”
রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরে খড়্গপুরে চা চক্র ও প্রাতঃভ্রমণে যোগ দেন BJP-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avisek Banerjee) কাঁথি মিটিং নিয়ে একের পর আক্রমণ করেন দিলীপ। প্রথা ভেঙে শনিবার কাঁথি মারিশদার ৫ নম্বর অঞ্চলে নেমে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। জনগণের দুঃখ, দুর্দশার কথা প্রত্যক্ষ করেন। এরই বিরুদ্ধে দিলীপের কটাক্ষ, “উনি কত বছরের এমপি? ১৩ বছর লাগল ওঁর বাড়ি পৌঁছতে। কত বয়স হলে লোকের বুদ্ধি হয়? যখন জঙ্গলমহলে লোক চোখে চোখ রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) প্রশ্ন করছে আমরা কিছু পাইনি, লোকের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, এখন লাভ নেই এইসব করে।”
ঝাড়গ্রাম হোক বা সুন্দরবন। জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ করার রীতিতে বহুদিন ধরেই অভ্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার অভিষেককেও দেখা যায় একই পথে হাঁটতে। তবে দিলীপের পালটা যুক্তি, বাংলার লোক দেখছে কে কী খেলছে। কেন আজকে লোকের বাড়ি, বাড়ি যেতে হচ্ছে ? আপনার নেতারা বাড়িতে বোম, বন্দুক মজুত করবে। রোজ বিস্ফোরণ হচ্ছে। মরছে ওদেরই লোক। নিজেরা মারামারি করে মরছে, নয়তো বোম ফেটে মরছে। সারা বাংলাকে কেন বোম, বন্দুক আর বারুদের স্তুপে পরিণত করা হয়েছে এভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন জিততে চাইছেন?
তৃণমূল সূত্রে খবর, শাসক দল প্রস্তুতি নিচ্ছে BJP বিধায়ক, সাংসদকে দলে টানার। গতকালই কাঁথির মিটিং থেকে ‘দরজা খুলে দেওয়ার’ আভাস শোনা যায় অভিষেকের মুখেও। সেই প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপের। তিনি বলেন, “এরা কি গরু ছাগল নাকি এদের কিনব ? গরুর দামের থেকেও কম দাম তৃণমূলের বিধায়ক, সংসদদের। এই পচা মাল কেউ নেবে না, একবার নিয়ে আমরা ঠকেছি। আর নেব না এইসব মাল।”
