মৃতা সোমাশ্রীর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের (Domestic Violence) মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায়শই মারধর করা হত সোমাশ্রীকে। এমনকী শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে কুকুরের লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এগারো আগে মদনগঞ্জের বাসিন্দা সোমাশ্রী সর্দারের সঙ্গে দক্ষিণ চন্দ্রনগরের বাসিন্দা অসীম সিংহের দেখাশোনা করে বিয়ে হয়। তাদের একটি নয় বছরের মেয়ে ও একটি তিন বছরের ছেলে রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বধূর উপর মারাত্মক অত্যাচার চলার অভিযোগ সামনে এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেড়েছে অত্যাচার।
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সোমাশ্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে আসে। অভিযোগ, এক দিন আগে জোর করে সোমাশ্রীর স্বামী ছেলে মেয়েকে নিজের সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসে। এরপরই সোমাশ্রীও সন্তানদের টানে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে চায়। অভিযোগ বধূর দাদা তাঁকে পৌঁছতে এলে সোমাশ্রীর শ্বশুর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। সাংঘাতিক ক্ষোভে বোনকে নিয়েই বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু ওই দিনই রাত ১০টা নাগাদ ফের সোমাশ্রীর স্বামী তাঁকে নিতে আসে। বহু কথা চালাচালির পর সোমাশ্রীকে নিয়েই ফেরে তাঁর স্বামী। কিন্তু এরপর দিনই সোমাশ্রীর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ মেলে (West Bengal News)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ সোমাশ্রীর স্বামী তাঁর প্রতিবেশীদের জানায় যে, তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপরেই ঘটনায় সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তারা মৃতার বাপের বাড়িতে খবর দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নামখানা থানার পুলিশও। ঘর থেকে দেহ উদ্ধার করে দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায় সেখানেই সোমাশ্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকরা।
ঘটনায় মৃতার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে নামখানা থানায় (Namkhana Police Station) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মৃতার শ্বশুর শাশুড়ি সহ স্বামীকে গ্রেফতার করে। ধৃত তিনজনকে বুধবার কাকদ্বীপ আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।
পশ্চিমবঙ্গের আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন। প্রতি মুহূর্তে খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন এই সময় ডিজিটালে।
