ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬১ বছরের প্রৌঢ়ার জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য দরকার ৪ ইউনিট রক্ত। সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টা। চটজলদি রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন মানবাজারের মাঝিহিড়ার বাসিন্দা ওই রোগিনীর পরিজন। তখনই তাঁদের ত্রাতা হয়ে উঠলেন তরুণ এক চিকিত্সক। সার্জারিতে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য কোচবিহারের বাসিন্দা সৃজন রায় সপ্তাহখানেক হলো এসেছেন পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারের আগে মঙ্গলবার তিনিই রক্ত দিয়ে সঙ্কট কাটালেন। রক্তদান করে তরুণ ওই চিকিৎসক বলেন, ‘রক্ত দিলে শরীরের কোনও সমস্যা হয় না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর এই রক্তপূরণ করে ফেলে। এটি সাধারণ মানুষেরও বোঝা দরকার।’ তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার সময়ও তিনি বহুবার রক্তদান করেছেন।
পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি শোনেন রানি মাহালি নামে ৬১ বছরের এক বৃদ্ধার রক্ত নিয়ে সমস্যা হয়েছে। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের মারাত্মক সঙ্কট চলছে। তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্র নেমে গিয়েছে ৮-এ। দুই ইউনিট রক্ত অস্ত্রোপচারের আগেই দিতে হবে। এ ছাড়াও অস্ত্রোপচারের জন্য আরও কিছুটা রক্ত হাতের কাছে রাখতে হবে। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৪ ইউনিট রক্ত। যেখানে এক ইউনিট রক্ত পাওয়াই ভীষণ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এতটা রক্ত জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ার পরিবারের কাছে। সমস্যার কথা শুনে তখনই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন ওই চিকিত্সক। বাকি ৩ ইউনিট রক্ত জোগাড় করেন রোগীর পরিজন।
বৃদ্ধার অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিত্সকের দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলের অন্যতম সদস্য এবং পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের শল্য চিকিত্সক পবন মণ্ডল বলেন, ‘ওই মহিলার প্যানক্রিয়াসে টিউমার রয়েছে। সেটি ম্যালিগন্যান্ট। জন্ডিসও রয়েছে। অস্ত্রোপচার করা খুবই প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে বুধবারই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত হয়। রক্ত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’ এই পরিস্থিতিতে রক্তদান করে বৃদ্ধার অস্ত্রোপচারের রাস্তা সহজ করে দিলেন ডাক্তার সৃজন রায়।