Manik Bhattacharya : ‘আমাকে মেরে ফেলো, কিন্তু স্ত্রী-ছেলেটাকে জড়িয়ো না!’ – manik bhattacharya former chairman of primary board requested not to involve his wife and son in scam case


এই সময়: ৫৭ দিন আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেশ কয়েক দফায় তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এত দিন তাঁকে সে ভাবে আদালত চত্বরে কথা বলতেও দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও নিরুত্তরই ছিলেন। কিন্তু বুধবার তাঁর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী-পুত্রের নামও ইডি চার্জশিটে জমা দেওয়ার পরে কখনও ক্ষোভ, কখনও অসহায়তার সুর তাঁর গলায়। এদিন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে বিশেষ সিবিআই আদালতে সওয়াল-জবাব শেষে আদালত কক্ষে খানিকটা স্বগতোক্তির মতো করেই সেই মানিক ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা গেল, ‘দয়া করে এমন ব্যবস্থা করুন, যেন আমাকে কালকের সকালটা দেখতে না-হয়!’ আবার কখনও বললেন, ‘আমাকে তোমরা মেরে ফেলো। কিন্তু দয়া করে আমার স্ত্রী আর ছেলেটাকে জড়িয়ো না!’ আবার নিজের আইনজীবীর উদ্দেশে বিরক্তি আর রাগ মেশানো সুরে মানিক বলেন, ‘আপনারা কেন বলছেন না আমি নির্দোষ? দয়া করে আমাকে বলার সুযোগ করে দিন।’

Manik Bhattacharya : দুর্নীতির কিংপিন মানিক, লাভবান হয়েছেন স্ত্রী-পুত্রও! ১৫০ পাতার চার্জশিট ED-র
এর আগে এজলাসে সওয়াল-জবাব চলাকালীনও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁকে খানিকটা অধৈর্য, কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে থাকতে দেখা গিয়েছে। শুনানি চলাকালীন তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক যখন এজলাস কক্ষ ছেড়েছেন, ঠিক তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মানিক। আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি জানান, তিনি নিজেও একজন আইনজীবী, এক সময়ে ল কলেজের অধ্যক্ষও ছিলেন। ফলে আইনের মারপ্যাচ তাঁরও ভালোই জানা আছে। বেশ জোরের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘আমি নিজে একজন লইয়ার!’ সেই সময়ে আইনজীবীরা তাঁকে বোঝাতে থাকেন। মানিক বার বার দাবি করতে থাকেন যেন তাঁর আইজীবীরা আদালতকে বলেন, প্রাথমিক ও এসএসসির মামলা দু’টি আলাদা। এ দিন ইডি আদালতে দাবি করে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ৬১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। মানিক তাঁর আইনজীবীদের কাছে দাবি করতে থাকেন, ‘আমার এই সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোনও যোগাযোগই নেই। ১৯৮৪ সাল থেকে আমি আয় করি। সে কথা ওরা শুনছে না। বার বার টাকা কোথা থেকে এল জানতে চাইছে।’

Paschim Medinipur News : প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তরুণী
স্ত্রী ও ছেলের নাম চার্জশিটে আসতেই মানিকের গলায় ধরা পড়ে হতাশা। কিছুটা ঘোরের মধ্যেই তিনি বার বার বলতে থাকেন, ‘এমন ব্যবস্থা করুন, যেন আমাকে কালকের সকাল দেখতে না হয়।’ মানিক কেন এমন কথা বলছেন, তার কারণ জানতে চান আইনজীবীরা। তখন কার্যত ভাঙা গলায় তিনি বলেন, ‘মিডিয়া আমার স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে যা খুশি তাই লিখবে, বলবে! আমি সেটা সহ্য করতে পারব না।’ তাঁর দাবি, ‘ওরা তো যা খুশি তাই করে যাচ্ছে!’ তবে এই ‘ওরা’ বলতে তিনি কাকে বুঝিয়েছেন, সে কথা খোলসা করেননি। কোর্ট লক-আপে নিয়ে যাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ আক্ষেপ করে যান বলে সূত্রের খবর। সন্ধের কিছুটা আগে অবশ্য তিনি শান্ত হন। আইনজীবীরা ফের তাঁর সঙ্গে দেখা করে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *