এর আগে এজলাসে সওয়াল-জবাব চলাকালীনও কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁকে খানিকটা অধৈর্য, কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে থাকতে দেখা গিয়েছে। শুনানি চলাকালীন তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক যখন এজলাস কক্ষ ছেড়েছেন, ঠিক তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মানিক। আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি জানান, তিনি নিজেও একজন আইনজীবী, এক সময়ে ল কলেজের অধ্যক্ষও ছিলেন। ফলে আইনের মারপ্যাচ তাঁরও ভালোই জানা আছে। বেশ জোরের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘আমি নিজে একজন লইয়ার!’ সেই সময়ে আইনজীবীরা তাঁকে বোঝাতে থাকেন। মানিক বার বার দাবি করতে থাকেন যেন তাঁর আইজীবীরা আদালতকে বলেন, প্রাথমিক ও এসএসসির মামলা দু’টি আলাদা। এ দিন ইডি আদালতে দাবি করে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ৬১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। মানিক তাঁর আইনজীবীদের কাছে দাবি করতে থাকেন, ‘আমার এই সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোনও যোগাযোগই নেই। ১৯৮৪ সাল থেকে আমি আয় করি। সে কথা ওরা শুনছে না। বার বার টাকা কোথা থেকে এল জানতে চাইছে।’
স্ত্রী ও ছেলের নাম চার্জশিটে আসতেই মানিকের গলায় ধরা পড়ে হতাশা। কিছুটা ঘোরের মধ্যেই তিনি বার বার বলতে থাকেন, ‘এমন ব্যবস্থা করুন, যেন আমাকে কালকের সকাল দেখতে না হয়।’ মানিক কেন এমন কথা বলছেন, তার কারণ জানতে চান আইনজীবীরা। তখন কার্যত ভাঙা গলায় তিনি বলেন, ‘মিডিয়া আমার স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে যা খুশি তাই লিখবে, বলবে! আমি সেটা সহ্য করতে পারব না।’ তাঁর দাবি, ‘ওরা তো যা খুশি তাই করে যাচ্ছে!’ তবে এই ‘ওরা’ বলতে তিনি কাকে বুঝিয়েছেন, সে কথা খোলসা করেননি। কোর্ট লক-আপে নিয়ে যাওয়ার পরেও অনেকক্ষণ আক্ষেপ করে যান বলে সূত্রের খবর। সন্ধের কিছুটা আগে অবশ্য তিনি শান্ত হন। আইনজীবীরা ফের তাঁর সঙ্গে দেখা করে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেন।
