তালিকা নিয়ে অসন্তোষও বহাল নানা প্রান্তে। পুরুলিয়ায় জেলা তৃণমূলের স্ত্রীর নামও তালিকায় মিলেছে। তা নিয়ে রাজৈনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়ে যায়। মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের বারিজাগদা এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান হংসেশ্বর মাহাতোর স্ত্রী শিবানীর নাম রয়েছে। যদিও হংসেশ্বরের দাবি, বিডিও-র কাছে তিনি নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ রেখেছেন। বিডিও গোলাম গউসল আজম জানান, শিবানীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত প্রধানের বাবা বা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির ভাইয়ের নাম তালিকায় ওঠায় ক্ষুব্ধ অনেকে। রুকুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুভঙ্কর দাসের বাবা নিতাই দাসের পাকা বাড়ি ও মিষ্টির দোকান আছে। তবু তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। আবার তালিকায় নাম থাকা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সাফিনুল বিশ্বাসের ভাই ইসাদুলের পাকা দোতলা বাড়ি, দোকান আছে। দু’জনেই অবশ্য নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করেছেন। দু’দফার সমীক্ষার পরে তৃতীয় দফায় সমীক্ষায় গিয়ে বর্ধমান ২ ব্লকের একাধিক গ্রামে ৭৮টি বাড়ি ঘুরে দেখে ১১টির মালিকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। তাঁদের সকলের পাকা বাড়ি রয়েছে। এদিকে, আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে তাঁরা বঞ্চিত, এই অভিযোগে কাঠের গুঁড়ি ফেলে দেগঙ্গার বেড়াচাপা-হাড়োয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।
তালিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিতে এসে তাঁদের দেওয়া তালিকা মেনে কাজ করতে বললেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামপদ দাস। কথা মানা না-হলে সব পঞ্চায়েত এবং বিডিও অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জে পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীদের একাংশ। ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এদিকে বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া ২ পঞ্চায়েতের আয়দা কিসমত গ্রামে বুধবার গভীর রাতে সরস্বতী ঘোষ নামে এক আশাকর্মীর বাড়ির মজুত করা পাট ও পাটকাঠির গুদামে আগুন লাগে। সরস্বতীর অভিযোগ, আবাস যোজনা সমীক্ষার কাজ করায় পরিকল্পনা করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
