PM Awas Yojana : ‘গোরু থাকে বাইরে, আমরাই গোয়ালে!’ – rajarhat pm awas yojana bdo revealed many names in beneficiary list who are ineligible


এই সময়: PM Awas Yojana Gramin থাকলই বা পাকা বাড়ি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় (Pradhan Mantri Awas Yojana) উপভোক্তাদের তালিকায় নাম তুলতে হবে তো! অতএব, সমীক্ষকদের চোখে ধুলো দিতে কেউ গোয়ালে লুকোলেন পরিচয়পত্র, কেউ বা রান্নাঘরে, এমনকী কাঁথা-বালিশ-লেপ-কম্বলে। বিবিধ ফিকির অবশ্য কাজে আসেনি। জেলা প্রশাসনের অফিসারেরা তা ধরে ফেলেছেন। তবে এমন কীর্তি দেখে তাঁরাও অবাক। এর বাইরে আবাস যোজনায় নাম তোলা ঘিরে বৃহস্পতিবারও জারি ছিল ক্ষোভ, অভিযোগের পালা। বলাগড়ে এক আশাকর্মীর বাড়িতে মজুত করা পাট ও পাটকাঠির গুদামে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাট (Rajarhat) ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তালিকা যাচাইয়ের কাজে গিয়েছিলেন বিডিও (BDO) ঋষিকা দাস এবং আইসি জামাল হোসেন। বকডোবা গ্রামে পাঁচিল ঘেরা একটি বড় বাড়িতে ঢুকে অবাক হয়ে যান তাঁরা। মার্বেল বসানো, এসি রয়েছে। এই বাড়ির মালিকের নাম তালিকায় কী করে! গৃহবধূ জানান, বাড়িটি তাঁর এক ভাইয়ের। তাঁরা গরিব, তাই ঠাঁই হয়েছে রান্নাঘরে। বলেই রান্নাঘরে রাখা লেপ-কম্বল দেখিয়ে দেন। পাশের বাড়ির গৃহকর্তা আবার গোরুর গোয়াল থেকে আধার কার্ড বের করে এনে বলেন, ‘গোরু বাইরে থাকে, আমরা থাকি গোয়ালে।’ সর্বৈব মিথ্যা বুঝতে পেরে বিডিও তৎক্ষণাৎ তাঁর নাম বাদ দেন তালিকা থেকে। এ ভাবেই ন’টি বাড়ি ঘুরে পাঁচটি ক্ষেত্রেই মালিকের নাম বাদ পড়ে।

Pradhan Mantri Housing Scheme : পঞ্চায়েত প্রধানের ঝাঁ চকচকে বাড়ি, বাবার নাম আবাস যোজনা তালিকায়
তালিকা নিয়ে অসন্তোষও বহাল নানা প্রান্তে। পুরুলিয়ায় জেলা তৃণমূলের স্ত্রীর নামও তালিকায় মিলেছে। তা নিয়ে রাজৈনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়ে যায়। মানবাজার ২ নম্বর ব্লকের বারিজাগদা এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান হংসেশ্বর মাহাতোর স্ত্রী শিবানীর নাম রয়েছে। যদিও হংসেশ্বরের দাবি, বিডিও-র কাছে তিনি নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ রেখেছেন। বিডিও গোলাম গউসল আজম জানান, শিবানীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

PM Awas Yojana : আবাস যোজনায় পঞ্চায়েত সদস্য সহ বাড়ির ৭ জন তালিকায়
পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত প্রধানের বাবা বা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির ভাইয়ের নাম তালিকায় ওঠায় ক্ষুব্ধ অনেকে। রুকুনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুভঙ্কর দাসের বাবা নিতাই দাসের পাকা বাড়ি ও মিষ্টির দোকান আছে। তবু তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। আবার তালিকায় নাম থাকা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সাফিনুল বিশ্বাসের ভাই ইসাদুলের পাকা দোতলা বাড়ি, দোকান আছে। দু’জনেই অবশ্য নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করেছেন। দু’দফার সমীক্ষার পরে তৃতীয় দফায় সমীক্ষায় গিয়ে বর্ধমান ২ ব্লকের একাধিক গ্রামে ৭৮টি বাড়ি ঘুরে দেখে ১১টির মালিকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। তাঁদের সকলের পাকা বাড়ি রয়েছে। এদিকে, আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে তাঁরা বঞ্চিত, এই অভিযোগে কাঠের গুঁড়ি ফেলে দেগঙ্গার বেড়াচাপা-হাড়োয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

Pradhan Mantri Awas Yojana : আবাস যোজনা: সার্ভার থেকে উধাও প্রায় ২০ হাজার নাম!
তালিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিতে এসে তাঁদের দেওয়া তালিকা মেনে কাজ করতে বললেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামপদ দাস। কথা মানা না-হলে সব পঞ্চায়েত এবং বিডিও অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জে পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীদের একাংশ। ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এদিকে বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া ২ পঞ্চায়েতের আয়দা কিসমত গ্রামে বুধবার গভীর রাতে সরস্বতী ঘোষ নামে এক আশাকর্মীর বাড়ির মজুত করা পাট ও পাটকাঠির গুদামে আগুন লাগে। সরস্বতীর অভিযোগ, আবাস যোজনা সমীক্ষার কাজ করায় পরিকল্পনা করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *