স্থানীয় সূত্রে খবর, খানাকুল থানার (Khanakul Police Station) ওসি সুমন কুণ্ডুর বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে বাড়ির গ্রিল ভেঙে ঢুকে ভাঙচুর চালানো ও মহিলা সদস্যদের গালিগালাজ, শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন খানাকুল ২ পঞ্চায়েত সমিতির (Khanakul 2 Panchayat Samity) মহিলা কর্মাধ্যক্ষ প্রতিমা বোদক। প্রতিমা খানাকুল ২ পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ। ঘটনার জেরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে খানাকুল ২ BDO, খানাকুল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, মহকুমাশাসক ও আরামবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আত্মহত্যা করার হুঁশিয়ারি দেন ওই কর্মাধ্যক্ষ।
জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাতে BJP ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে খানাকুলের (Khanakul) হরিশচক এলাকায়। ঘটনায় এক BJP কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় BJP-র পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা তথা ওই কর্মাধ্যক্ষের স্বামী বিজয় বোদকের নামে অভিযোগ দায়ের করে BJP। এই ঘটনার পরেই সোমবার রাতে খানাকুল থানার পুলিশ (Khanakul Police Station) বাহিনী নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয় খানাকুল ওসি সুমন কুণ্ডু। অভিযোগ, তল্লাশির নামে মহিলা পুলিশ ছাড়াই বাড়ির গ্রিল ভেঙে ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় পুলিশ। কর্মাধ্যক্ষ ও তাঁর মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা ও তাঁদের শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পড়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকেই এহেন ব্যবহার পেয়ে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রতিমা দেবী।
ঘটনায় সুবিচার চেয়ে খানাকুল ২ BDO, মহকুমাশাসক সহ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা কর্মাধ্যক্ষ। এদিকে খানাকুল ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন খানাকুল ২ BDO ও খানাকুল ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় BDO বলেন, “উনি আমাকে এসে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ তদন্তের ব্যাপারে আশ্বাস দিচ্ছি। অভিযোগ সত্য হলে যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সেটি গ্রহণ হবে। আমারই পঞ্চায়েত এলাকার সক্রিয় মহিলা কর্মাধ্যক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, ওঁর কোনওরকম নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে সেটার ব্যবস্থা করা হবে।” যদিও এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্থানীয় পুলিশকর্তারা।
