গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুন্দরবন পুলিশ (Sundarban Police) জেলার স্পেশাল টীম জাহাজ ডুবির চর থেকে চুরি করা জাহাজের কাটা অংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত আটজনের বাড়ি ফ্রেজারগঞ্জ থানা (Fraserganj Police Station) এবং নামখানা থানায় (Namkhana Police Station) এলাকায়। ধৃত সকলকেই মঙ্গলবার কাকদ্বীপ দেওয়ানি আদালতে (Kakdwip Court) তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ ডুবির চড় থেকে যে দুই থেকে তিনটি জাহাজ ডুবেছিল সেই জাহাজের পার্টস সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ কেটে চুরি করে নেওয়া হচ্ছিল। গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল সেইসব যন্ত্রাংশ। পুলিশের কাছে এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়েছিল। এরপরেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এরকম একটি পুলিশ সূত্রে খবর, এই জিনিসগুলি খিদিরপুরে (Khiddirpur) বিক্রি করা হচ্ছিল। মালপত্রগুলোকে আটক করে এবং আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদেরকে আজকের কাকদ্বীপ দেওয়ানিও আদালতে তোলা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত প্রত্যেককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের আর কেউ জড়িত কিনা সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সুন্দরবন উপকূলে একাধিকবার এর আগে জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তেল বা পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। বাজেয়াপ্ত ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলিকে সুন্দরবনের জাহাজডুবি চড়ে ফেলে রাখা হয়। পুলিশের অগোচরেই সেই সব ভগ্নপ্রায় জাহাজের কেটে বিক্রি করার জন্য এই চক্রটি কাজ করতে। গোপনে জাহাজের যন্ত্রাংশ কেটে নেওয়ার কাজ হতো। তারপর সেই যন্ত্রাংশ নিয়ে এসে বেচে দেওয়া হতো কলকাতার বাজারে (Kolkata Market)। এই চক্রের পিছনে দীর্ঘদিন ধরেই লেগেছিল পুলিশ। অবশেষে ফ্রেজারগঞ্জ এবং নামখানায় এই চক্রের কয়েকজনের ব্যাপারে সন্ধান পায় পুলিশ। কেটে নেওয়া জাহাজের যন্ত্রাংশ সহ প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হয়। আগামী দিনেও জাহাজের যন্ত্রাংশ চুরি যাওয়ার ব্যাপারে নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।
