পশ্চিমবঙ্গ ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহলের (Bharat Jakat Majhi Pargana Mahal) তরফ থেকে বুধবার, রাজ্যব্যাপী ১২ ঘণ্টার পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মাঝেই বাঁকুড়া (Bankura) জেলার জঙ্গলমহল রাইপুরে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আদিবাসী নেতা বিল্পব সোরেন। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল-এর বাঁকুড়া (Bankura) জেলার শীর্ষ নেতা, এই আন্দোলন চলা কালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান,”আবাস যোজনায় দুর্নীতিতে যে সব আধিকারিকরা যুক্ত, তাঁদের টেনে বের করে গণধোলাইয়ের ব্যাবস্থা করব আমরা।” দাবিগুলো মেনে না নিলে তাঁরা পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদিবাসী নেতা।
পশ্চিমবঙ্গ ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল (Bharat Jaka Majhi Pargana Mahal) যে বিষয় গুলোকে সামনে রেখে এই অবরোধ কর্মসূচিতে সামিল হয় তার মধ্যে নূন্যতম হল সারি ধরম কোড বিল অবিলম্বে চালু করা, ফেক ST সার্টিফিকেট বাতিল, সাঁওতালি ভাষায় আলাদা শিক্ষা বোর্ড গঠন সহ আরও একাধিক দাবি।বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দফায় দফায় অবরোধ কর্মসূচিকে সামিল হয়েছেন তাঁরা।
বুধবার সকাল ছ’টা থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যাপী চাক্কা জ্যামের ডাক দেয় আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকা মাঝি পারগানা মহল (Bharat Jaka Majhi Pargana Mahal)। আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে চলছে অবরোধ কর্মসূচি। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। দফায় দফায় অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ যান চলাচল। আদিবাসী সংগঠনটির পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচীর ফলে জেলার সর্বত্র আটকে পড়েছে বেশ কিছু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। সমস্যায় সাধারণ মানুষ। অবরোধকারী সংগঠন সূত্রে খবর, জেলায় জেলায় সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চরম অবহেলার শিকার। একদিকে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নেই, অন্যদিকে পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব রয়েছে। শুধুমাত্র বাঁকুড়া (Bankura) জেলাতে ১০৬ টি সাঁওতালি মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। বর্তমানে তা ৫০-এ নেমে এসেছে। তাছাড়া হোস্টেল গুলি তো আগেই বন্ধ হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে এই সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে।
