অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষিকার অভাবে বন্ধ হতে চলেছে এলাকার একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র (Primary School)। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে রীতিমতো প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অভিভাবকরা। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গার (Deganga) দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাত হাতিয়া গ্রামে। ঘন্টাখানেক ধরে শিক্ষা কেন্দ্রের মূল গেটের বাইরে চলে এই বিক্ষোভ।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার সাতহাতিয়া এস এস কে স্কুলের মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১০৭ জন। শিক্ষিকা আছেন মাত্র দু’জন। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাইয়েদা রহিমা খাতুন দু’মাস পরেই অবসর নেবেন। অন্য শিক্ষিকা জাহানারা খাতুন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই রহিমার সঙ্গে তিনিও স্বেচ্ছা অবসর নেবেন বলে জানিয়েছেন। তাই এই দুই শিক্ষিকা অবসরে গেলে কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে সাত হাতিয়া এস এস কে বিদ্যালয়টি। স্কুল বন্ধের ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে টিসিও নিয়েছেন প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী। কিন্তু তাদেরও অন্য স্কুল ভর্তি নিচ্ছে না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এরই প্রতিবাদ স্কুলে বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।
একজন অভিভাবক জানান, “ওপরমহলে বহুবার জানানো হয়েছে যে স্কুলে শিক্ষিকার দরকার। এমনিতেই আছেন মাত্র দুজন শিক্ষিকা, আর এত এত পড়ুয়া। ১০০ জনের ওপর পড়ুয়া সামলাতে দুজন শিক্ষকের নাভিশ্বাস ওঠে। কিন্তু এই স্কুলটি চালানো নিয়ে কারোর কোনও হোলদোলই নেই। রি দুজন শিক্ষিকা অবসরে গেলেই স্কুলটি যে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে, তা আমরা বুঝে গিয়েছি।” ব্লক প্রশাসন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অভিভাবকরা এখনও পর্যন্ত কোনও সাড়া পায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত বছরই শিক্ষকের অভাবে বীরভূমের লাভপুর ব্লকে তিনটি উচ্চ প্রাথমিক স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ধুঁকছে অন্য বেশ কয়েকটি। এরকম ভাবে চললে রাজ্যে যে কত স্কুল বন্ধের মুখে পড়বে, সেই নিয়েই আশঙ্কিত রাজ্যের শিক্ষামহল।
