কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার নামে খোলা একটি ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে ওই চিকিৎসককে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। অনলাইনে (Online Fraud) নিয়মিত ওই চিকিৎসকের সঙ্গে চলত চ্যাটিং। কথাবার্তা কিছুদূর এগনোর পর ফোন নম্বর বদল হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপরই ওই চিকিৎসকের ফোনে একাধিক ভিডিয়ো কল এসেছিল। প্রথমে কলের ওপারে নগ্ন এক মহিলাকে দেখে চমকে যান ওই চিকিৎসক। ফোন কেটে দিলেও স্ক্রিনশট তুলে নিয়ে শুরু হয় ওই চিকিৎসককে ব্ল্যাকমেল। ফুলবাগানের (Phoolbagan Area) বাসিন্দা ওই চিকিৎসক সেপ্টেম্বর মাসে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারেন, মহারাষ্ট ও দিল্লির নম্বর ব্যবহার করে ওই চিকিৎসককে ভিডিয়ো কল করা হয়েছিল। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্ল্যাকমেলে ভয় পেয়ে চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে ১১ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু, টাকা পাঠানো সত্ত্বে ওই চিকিৎসককে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই করণের হদিশ পায় পুলিশ। জানা গিয়েছে, এই ঘটনা জড়িত সন্দেহে আরও পাঁচজনের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। রবিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে ২৮ জানুয়ারি অবধি পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ফেসবুক ও হোয়াটস্যাপের এই যুগে অনেকেই এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছেন, অনেকেই প্রতারণার শিকার হলেও অভিযোগ জানাতে বিব্রত বোধ করেন। পুলিশের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, কখনও কোনও অজানা নম্বর থেকে ভিডিয়ো কল না ধরলেই এই ধরনের প্রতারণা হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।
