স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র সুপারিশের ভিত্তিতে একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের তদন্তে সিবিআইয়ের (CBI) নজরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২১টি স্কুল। স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিকে ‘নিয়ম বর্হিভূত ভাবে’ সরকারি অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল সিবিআই (CBI)। জবাবে বিকাশ ভবনের কর্তারা জানিয়েছেন, এই পদ তৈরির পিছনে তাঁদের ভূমিকা নেই।
কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে এসএসসি (SSC) মারফত নিয়োগ-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে একাদশ-দ্বাদশে কমপক্ষে ৯০৭ জনের ওএমআর শিটে জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সিবিআই (CBI)। এর বাইরে নানা ভাবে অনিয়ম হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। তদন্তের সূত্রে ২১টি স্কুলের সন্ধান পেয়েছে সিবিআই (CBI)। যার বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গের নানা জেলায়। স্কুলগুলিতে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্ন উঠেছে, সেই তালিকা গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষা সচিবকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ২০১৮ থেকে ২০২০-র মধ্যে স্কুলগুলিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল, বিভাগীয় চিঠিপত্র, ই-মেলও চেয়েছে সিবিআই (CBI)।
যে সব স্কুলের কথা সিবিআই (CBI) উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদা, জলপাইগুড়ি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে আছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ার কয়েকটি স্কুল। সিবিআই (CBI) সূত্রের দাবি, ২০১৬-র পরীক্ষায় উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি (SSC)-র নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময় পেরোনো প্যানেলের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পদ সামনে এনে কিছু প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়। ২১টি স্কুলে এই অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ।
রাজ্যের এক শিক্ষাকর্তা জানাচ্ছেন, রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদিত পদ ‘বণ্টন’ বা বরাদ্দের মধ্যেই শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা সীমাবদ্ধ। মন্ত্রিসভার অনুমোদিত পদ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জানায় ‘ডিরক্টরেট অফ স্কুল এডুকেশন’। এসএসসি (SSC)-র তরফে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞাপন প্রকাশ, পরীক্ষা ও ফলপ্রকাশের পরই শূন্য পদ অনুযায়ী প্যানেল তৈরি হয়। যার আয়ু এক বছর। তারপর প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানো হলে, শিক্ষা দপ্তরকে তা জানানোর কথা এসএসসি-র। কিন্তু এই ২১ স্কুলে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সিবিআইকে শিক্ষাকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়োগের কোনও সুপারিশ এসএসসি (SSC) বিকাশ ভবনে পাঠায় না। এসএসসি (SSC) কর্তাদের দাবি, বিধি অনুযায়ীই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছিল।