Bharatiya Janata Party : ট্রেন ছেড়ে দেবে, মিটিং ছাড়লেন পদ্ম-নেতারা – bjp leaders left durgapur party meeting for train time


এই সময় : বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কী হলো, সে না হয় পরে জেনে নেওয়া যাবে। কিন্তু ট্রেন এক বার প্ল্যাটর্ফম ছেড়ে গেলে আর কি ফিরবে! সুতরাং ট্রেন আর রাজ্য কার্যকারিণী বৈঠকের মধ্যে ট্রেনকেই বেছে নিলেন দূরের জেলা থেকে আসা বঙ্গ-BJP-র নেতারা!

তাঁদের এই ‘প্রেফারেন্সের’ বিষয়টি জানা ছিল না BJP-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মঙ্গল পাণ্ডের। শনিবার বৈঠক-কক্ষের একাংশ ফাঁকা দেখে তিনি জানতে চান, কী হয়েছে? বাকিরা কোথায়? ঢোক গিলে সুকান্ত মজুমদাররা (Sukanta Majumdar) তাঁকে জানান, ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। সবাই তাই পড়িমরি করে স্টেশনে ছুটেছেন। এর পর বিস্ময় এবং বিরক্তি, দু’টির কোনওটাই চেপে রাখতে পারেননি মঙ্গল। সূত্রের খবর, ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “বহু রাজ্যে সংগঠনের কাজ করেছি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া এমন দৃশ্য কোথাও দেখিনি। যাঁরা দলের জন্যে একটা ট্রেন ছেড়ে দিতে পারেন না, তাঁরা বিজেপির সরকার তৈরির জন্যে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না।”

Sukanta Majumdar : ‘…বাংলাতেও অসুর শক্তির উথান হয়েছে’, ভিড়িঙ্গি কালিবাড়িতে পুজো দিয়ে মন্তব্য সুকান্তর
BJP-র দলীয় বৈঠকে নেতাদের গরহাজির থাকা নতুন নয়। বস্তুত, বিধানসভা ভোটের পর থেকে এটাই বঙ্গ-BJP-তে ‘ট্রেন্ড’। কিন্তু রাজ্য কার্যকারিণী বৈঠকের মতো ‘হাই-প্রোফাইল’ বৈঠক মাঝপথে ফেলে নেতারা ট্রেন ধরতে ছুটছেন, এমনটা বিরল বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের একাংশেরও।

দুর্গাপুরে BJP-র দু’দিনব্যাপী রাজ্য কার্যকারিণী বৈঠক শেষ হয়েছে শনিবার। বৈঠকের সময়সূচি আগেই রাজ্য কমিটির সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শনিবার বিকেল পাঁচটায় বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। সেই মতো রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতারা দুর্গাপুর থেকে ট্রেনের টিকিট বুক করেছিলেন। কিন্তু পাঁচটার পরেও চলতে থাকে BJP-র রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠক। ট্রেনের টিকিট কেটে রাখা নেতারাও উসখুস করতে থাকেন। কিন্তু সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্যর মতো কেন্দ্রীয় নেতাদের চোখের সামনে দিয়ে তাঁরা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাবেনই বা কী ভাবে! হঠাৎ-ই তাঁরা হাতে চাঁদ পান। দশ মিনিটের চা-বিরতি। মওকা বুঝে দূরের জেলার নেতারা ছুট লাগান দুর্গাপুর স্টেশনের (Durgapur Station) উদ্দেশে। চা-পান শেষে বৈঠক-কক্ষে ফিরে সুনীল-মঙ্গলরা দেখেন, সব ভোঁ-ভাঁ! রাজ্য কার্যকারিণী বৈঠক যেন ভাঙা হাট। আর মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, সুনীল বনসলের দিকে তাকিয়ে মঙ্গল কার্যত হতাশার সুরেই জানতে চান, “এমন ঘটনা অন্য কোনও রাজ্যে আপনি দেখেছেন? আমি তো দেখিনি।” ঘাড় নেড়ে সায় দেন বনসলও।

Suvendu Adhikari : ডাকাত কুন্তলকে বাঁচাতে পারল না দিদির সুরক্ষা কবচ: শুভেন্দু
বৈঠকে এর আগেও বনসল কড়া ভাষায় র্ভৎসনা করেন বাংলার নেতাদের। বঙ্গ-BJP নেতৃত্বকে হঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সংগঠনের হাল খুবই খারাপ। কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে যান। আমরা বিকল্প খুঁজে নিচ্ছি।” সুকান্তদের এক গুচ্ছ ‘হোমটাস্ক’ দিয়েও সতর্ক করেন তিনি। সূত্রের খবর, বৈঠকে বনসল দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা, মণ্ডল কমিটির বৈঠকগুলি না সারলে দিল্লি কঠোর পদক্ষেপ করবে। পঞ্চায়েত ভোটের কথা মাথায় রেখে সুনীল-মঙ্গলরা কিছু মাস আগেই রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অঞ্চল সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুকান্তদের। কিন্তু সেগুলি ঠিক ভাবে হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। রাজ্য কমিটির সদস্যদের নাম ধরে সুনীলরা জানতে চান, কে কতগুলি অঞ্চল সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন? ছাড় পাননি সুকান্ত, দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীরও। ভরা বৈঠকে তাঁদেরও উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের জেলা সফরের পরিসংখ্যান দিতে হয়। BJP-র অন্দরের খবর, রাজ্য নেতাদের দায়িত্ব মনে করিয়ে মঙ্গল বলেন, “আপনারা রাজ্যের নেতা। আপনারাই যদি অঞ্চল সম্মেলন করতে জেলায় না যান, তা হলে কোন মুখে নিচুতলার নেতাদের বলবেন, অঞ্চল সম্মেলন ঠিক ভাবে করতে! নিচুতলার নেতাদের উপরে দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার আগে নিজের কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করুন।”

Suvendu Adhikari : ‘সল্টলেক-রাজারহাটে রোহিঙ্গা’, অভিযোগ শুভেন্দুর
তবে কর্তব্য পালনের বার্তা যে নেতাদের বড় অংশের কানে পৌঁছয়নি, তা বৈঠকের শেষলগ্নে বিলক্ষণ টের পেয়েছেন BJP-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। কারণ, তাঁদের পরবর্তী নির্দেশ শোনার সময়টুকুও খরচা না-করে রাজ্য নেতারা অনেকেই বৈঠক ফেলে ছুটেছেন ঘরে ফেরার ট্রেন ধরতে!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *