জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘাটাল চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়কের (Ghatal Chandrakona State Highway) হেমতপুর এলাকায় চাঁদার জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন পণ্যবাহী গাড়ির চালক থেকে শুরু করে ট্রাকচালকরা (Truck Drivers)। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে এই বিষয়ে তাঁরা অভিযোগ করেন স্থানীয় ক্ষীরপাই ফাঁড়িতে। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলছিল জোরপূর্বক চাঁদা আদায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ক্ষীরপাই ফাঁড়ির পুলিশ। চাঁদা নিয়ে জুলুমবাজির জেরে আটকও করা হয় একজনকে।
এরপরেই রীতিমতো ক্ষেপে ওঠেন হেতমপুর গ্রামের কিছু মানুষ। আটক হওয়া ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে রাজ্য সড়ক (Ghatal Chandrakona State Highway) অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন এলাকার মানুষজন। সেই সঙ্গে চলে তুমুল বিক্ষোভ। মুহূর্তের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ঘাটাল চন্দ্রকোনা রাজ্য সড়ক। দেখা যায় তীব্র যানজট। সড়কের ওপরে দাঁড়িয়ে যায় সারি সারি গাড়ি। বিক্ষোভে অংশগ্রহনকারী স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “চাঁদা নিয়ে যে জুলুমবাজির অভিযোগ করা হয়েছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। আমরা চাঁদা নিয়ে কোনও জোর করিনি। গাড়ির চালকদের বলা হয়েছিল যে যার ইচ্ছে মতন কিছু চাঁদা দিতে। কিন্তু কিছু চালক গা-জোয়ারি করে আমাদের সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ভাবে ঝামেলা পাকান, তারপর নিজেরাই পুলিশে গিয়ে অভিযোগ করেন। আর পুলিশ আমাদের কোনও কথা না শুনেই আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি না দেওয়া হলে আমরা অবরোধ তুলব না।”
ওই বিক্ষোভকারী আরও বলেন, “প্রত্যেক বছরই আমরা চাঁদা নিয়ে থাকি, আর গাড়ি চালকদের প্রসাদও খাইয়ে থাকি। এবার কিছু গাড়ি চালক এমন ব্যবহার কেন করলেন, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।” বিক্ষোভকারীদের মতে, পুলিশ একতরফা কাজ করেছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে এসে কোনও আলোচনা করেনি পুলিশ, মূলত এই ক্ষোভেই ফুঁসছেন হেতমপুর গ্রামের মানুষ। অবরোধের খবর পেয়ে ক্ষীরপাই ফাঁড়ির বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অবরোধ তুলে রাজ্য সড়ক যানজট মুক্ত করে।