BBC Documentary : JNU-এর ছায়া প্রেসিডেন্সিতে, মোদীর তথ্যচিত্র দেখানোর মাঝেই ক্যাম্পাসে লোডশেডিং! – presidency university showed bbc documentary on narenda modi amid alleged power cut


এই সময়: কোথাও কোনও আপত্তি ছিল না। কোনও অশান্তি হওয়ার সুযোগও ছিল না। তবু বিবিসি-র তৈরি নরেন্দ্র মোদীর উপর তথ্যচিত্র (BBC Documentary On Narendra Modi) দেখানো নিয়ে তপ্ত হলো প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালের (Presidency University) ক্যাম্পাস। কারণ, সেই তথ্যচিত্র চলাকালীন হঠাৎ করেই রহস্যজনক ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, আগে থেকেই কর্তৃপক্ষ শাসিয়ে রেখেছিলেন এই ছবি ক্যাম্পাসে দেখানো যাবে না। ‘জোর করে’ দেখানো হলে তার ফল ভুগতে হতে পারে পড়ুয়াদের। তারপরও পড়ুয়ারা শুক্রবার সেই ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। দেখা যায়, যে ঘরে ছবিটি চলছিল, শুধু সেখানেই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

BBC Documentary on Modi: JNU এর পর প্রেসিডেন্সি? মোদীকে নিয়ে BBC-র তথ্যচিত্র এবার কলকাতায়!
ঘটনা হলো, কিছুদিন আগেই এসএফআই এবং অন্য একটি ফিল্ম সোসাইটি আলাদা আলাদা ভাবে ক্যাম্পাসে এই তথ্যচিত্রটি দেখানোর কথা ঘোষাণা করে। এর অনুমতি মেলেনি। পূর্ব ঘোষণা মতো, শুক্রবার ছিল এসএফআইয়ের দেখানোর পালা। ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গায় তৎকালীন গুজরাট সরকার তথা গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে দু’টি ভাগে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে বিবিসি। নাম, ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’। এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। দেশে সব ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তা সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে। ২৬ জানুয়ারি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এ দিন প্রেসিডেন্সিতে এই ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় এসএফআইয়ের তরফে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে ছবিটি দেখানোর আগেই কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় জেনারেল স্টুডেন্টস কমন রুমে ছবিটি দেখানো হচ্ছিল। প্রচুর পড়ুয়া সেখানে জড়ো হন। এসএফআই নেতা ঋষভ সাহার অভিযোগ, ‘ছবিটি আধ ঘণ্টা চলার পরে হঠাৎই ওই কমন রুমের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আমরা স্লোগান দিতে দিতে ডিনের সঙ্গে কথা বলি। তিনি জানান, ফিউজ় উড়ে গিয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত পড়ুয়াদের চাপের মুখে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো হয়। এরপর এই তথ্যচিত্রের প্রথম ভাগটি দেখানো হয়। ঋষভের অভিযোগ, ‘প্রথম থেকে কর্তৃপক্ষ আমাদের শাসাচ্ছিলেন। আমাদের বলা হয়েছিল, এই ছবি দেখানো যাবে না বলে উপর মহল থেকে না কি কর্তৃপক্ষের চাপ ছিল।’এই বিষয়ে এসএফআইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে আইসি-ও। তাদের আহ্বায়ক অহন কর্মকারের প্রশ্ন, ‘হঠাৎ বিজেপির স্বার্থ সিদ্ধি করার কাজে কর্তৃপক্ষ নামলেন কেন?’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ডিন অফ স্টুডেন্টস অরুণ মাইতি কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, ‘যা হয়েছে তা পরিকল্পনা মাফিক।’ কী পরিকল্পনা, সে ব্যাপারে তিনি কোনও জবাব দেননি।

SFI Screening BBC Documentary : JNU-এর পর জামিয়া! BBC-র তথ্যচিত্র ঘিরে উত্তেজনা, আটক একাধিক পড়ুয়া
রাজ্য শাসকদল তৃণমূল এই বিতর্কের দায় কর্তৃপক্ষের উপরেই চাপিয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষের বক্তব্য, ‘কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো, সেটা পড়ুয়ারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই জেনে নিক। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।’ তন্ময়ের সংযোজন, ‘লোডশেডিং করার অভ্যাস বিজেপি আর শুভেন্দু অধিকারীর আছে। আমাদের নেই।’ তবে এ দিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেটের কাছে এই ছবিটি দেখানো হয় ছাত্র সংগঠন আইসার তরফে। সেখানে অবশ্য কোনও বিপত্তি বা বিতর্ক হয়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *