জমিজট ইস্যুতে এদিন শান্তিনিকেতনে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে অর্থনীতিবিদের হাতে জমির সরকারি নথি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি চলে আলাপচারিতা। তখন মুখ্যমন্ত্রী চা খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় নোবেলজয়ীর পরিবারের সদস্যদের তরফে। পাশাপাশি সিঙারা খাওয়ার অনুরোধ করা হয়। জবাবে মমতা বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওনার দেখা হয়েছে এটাই অনেক। আমি অল্প চা খেতে পারি।’ তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন ‘চা কি চিনি ছাড়া হবে?’ জবাবে মমতা বলেন, ‘চিনি আমি খাই। অল্প চিনি। স্লাইট চিনি দিলেই হবে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বীরভূম সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বভারতীর সঙ্গে অমর্ত্য সেনের জমি নিয়ে টানাপোড়েনে অর্থনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নাম না করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আক্রমণের পাশাপাশি বিজেপিকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘একটা এত বড়মাপের মানুষকে প্রতিদিন বিনা কারণে অপমান করা হচ্ছে। কেন এমনটা হবে? বাংলার মানুষ মোটেও এটাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। মানুষই জবাব দেবে।’ বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওনার কি উপাচার্য হওয়ার আদৌ কোনও যোগ্যতা রয়েছে? গৈরিকীকরণের জন্য এই কাজ করা হচ্ছে।’
বীরভূমের মমতার একের পর এক কর্মসূচি রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন অমর্ত্য সেনের সঙ্গে দেখার পর দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে প্রশাসনিক জনসভা ও পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মমতা। সেখানে থেকে রাতে বীরভূমে ফিরবেন। বুধবার সেখানে সরকারি সভা রয়েছে মমতার। সেই সভা থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা প্রদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে মমতা বিশেষ কোনও বার্তা দেন কিনা সেটাই এখন দেখার।
