বছর তিনেক আগে পরিচয় সুশান্ত আর শঙ্করের। গত দু’বছর ধরে তাঁরা ছিলেন লিভ-ইন সম্পর্কে (Live In Relationship)। দু’জনের সম্পর্কের কথা অজানা ছিল না দুই পরিবারে। তাঁদের ভালবাসার সম্পর্কে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াননি দুই পরিবারের কেউই। একজন আর একজনের বাবা-মাকে বাবা-মা বলেই ডাকতেন। কখনও সুশান্তর বাড়িতে, কখনও শঙ্করের বাড়িতে থাকতেন দু’জন। গত কয়েকদিন শঙ্করের বাড়িতে ছিলেন সুশান্ত।
সঙ্গীহারা শঙ্কর বলেন, “আমরা সারাজীবন একসঙ্গে থাকার শপথ নিয়েছিলাম। কেউ বিয়ে করব না বলেও ঠিক করেছিলাম। ও রোজই খুব সকালে ওঠে। তেমনই মঙ্গলবার সকালে উঠে পুজো করে বেরিয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে সুশান্ত ফেরেনি শুনে ফোন করি। ও দু’-তিন বার ফোন কেটে দেওয়ার পর ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে ফোন খুললে আমি ফোন করতেই বলে গলা, বুক জ্বলে যাচ্ছে। বললাম কী খেয়েছিস? বলল বোতল পরিষ্কার করার পাউডার খেয়েছি। দেখি গুপ্তিপাড়া স্টেশনের কাছে একটা দোকানের সামনে পড়ে রয়েছে। বমি করছে। ও জল আর তেঁতুল খাওয়াতে বলে। তা খাইয়ে টোটোয় করে ওকে কালনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওকে মৃত ঘোষণা করে।”
হঠাৎ এমন ঘটনা কেন?
শঙ্করের কথায়, “ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক কাশ্মীরি বন্ধু সরস্বতী পুজোয় এসে আমার বাড়িতে ওঠে। তা নিয়ে আপত্তি ছিল সুশান্তর। দিন তিনেক আগে এ নিয়ে ওর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল একটু। তার জেরে যে ও এই কাণ্ড করবে ভাবিনি।” শঙ্করের মা নিভা ঢালি বলেন, “ওরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। কখনও আপত্তি করিনি।” সুশান্তর দাদা সঞ্জিত বলেন, “সকাল ৮টা ১০ নাগাদ খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি দেহ পড়ে রয়েছে। ওরা বলল ভাই বিষ খেয়েছে।” সুশান্তর মাসি রিনা দাসের কথায়, “যখনই আসত ওই বন্ধুকে নিয়ে আসত। ওকে ছাড়তে বলেছিলাম। বারণ করলেও শোনেনি। তার পর যে এই কাণ্ড হবে ভাবিনি।”
