প্রদ্যুত্ দাস: কয়েক মুহূর্তেই ঘটে গেল গোটা ঘটনাটা। বন্ধুবান্ধবের চোখের সামনেই ৬ তলা থেকে নীচে পড়ে গেল পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের কোটায়। নিহত পড়ুয়ার বাড়ি জলপাইগুড়ির কোটায়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আঁত্কে উঠছেন পরিবারের লোকজন।
আরও পড়ুন-ক্ষোভে, অপমানে গর্জে উঠলেন ‘দ্য পাওলি এক্সপ্রেস’ পিটি ঊষা! কিন্তু কেন?
সর্বভারতীয় নিট এর কোচিংয়ের জন্য রাজস্থানের কোটায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল ধূপগুড়ির কিশোর ঈশানাংশু ভট্টাচার্য। থাকত ওই প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাত দশটা নাগাদ সে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ব্যালকনিতে গল্প করছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ব্য়ালকনিতে অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম ও জাল দিয়ে একটি ফেন্সিং দেওয়া রয়েছে। ঈশানাংশু অন্যমনস্কভাবে সেই ফেন্সিংয়ে হেলান দিতেই সেটি বাইরের দিকে ভেঙে বেরিয়ে যায়। চেখের নিমেষে ৬ তলা থেকে নীচে পড়ে যায় ঈশানাংশু। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত ছাত্রের বাবা দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যকে ছেলের মৃত্য়ুর খবর দেয় কোটা পুলিস। খবর পেয়েই তিনি কোটার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বলেন, বিষয়টি ধূপগুড়ি পুরসভার মধ্যে পড়ে। তাই ওখানকার পুরসভার চেয়ারম্যান বা বাইস চেয়ারম্যান বিষয়টি বলতে পারবেন।
ধুপগুড়ি পৌরসভার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং জানান, ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমার পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে ওই পরিবারটি। তাই এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এনিয়ে শোক প্রকাশের ভাষা নেই। দেহ আজ পোস্টমর্টেম হবে। কার পরে দেহ ধূপগুড়িতে নিয়ে আসা হবে। এর থেকে বড় দুঃখ মানুষের জীবনে আর হয় না।
ওই ঘটনায় ধূপগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত জানান, খুব দুঃখজনক ঘটনা। সকালে লোক মারফত খবর পাওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে দৃশ্য দেখা গিয়েছে। পরিবারের পাশে আমরা আছি আমরা। ডাক্তার হওয়ার আশায় একটি ছেলে কোটায় গিয়েছিল। কিন্তু তার জীবন যে এভাবে শেষ হয়ে যাবে ভাবতেই পারছি না।
