যেমন, গাছের সিম দিয়ে সবুজ রং, ভুসোকালি দিয়ে কালো রং, অপরাজিতা ফুল দিয়ে নীল রং, সেগুন গাছের পাতা দিয়ে মেরুন রং, পান-সুপারি চুন দিয়ে লাল রং, পুঁই ফল দিয়ে গোলাপি রং, কাঁচা হলুদ দিয়ে হলুদ রং, পুকুর খনন করে মাটি বের করে তা দিয়ে সাদা রং ইত্যাদি তৈরি করা হয়। সাধারণত এই সমস্ত প্রাকৃতিক রং দিয়ে পট চিত্রের পাশাপাশি ছাতা, হাতপাখা, হ্যান্ডব্যাগ, মোড়া, লন্ঠন, কেটলি নানা জিনিস আঁকা হয়। তবে বর্তমানে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, টি শার্টেও ফেব্রিক রং ব্যবহার করে পট চিত্র তৈরি করছেন শিল্পীরা। আর এভাবেই পটচিত্রের মাধ্যমে তৈরি নানা জিনিসের সম্ভার নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মেলায় পৌঁছে যান তারা।
করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কঠিন অবস্থা তৈরি হলেও বর্তমানে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এই শিল্পীরা। এদিন বানীপুর মেলায় (Banipur Lok Utsav) পটচিত্র শিল্পীদের স্টলে রীতিমতো ভিড় দেখা গেল সাধারণ মানুষদের। নিজেদের পছন্দের মত পটচিত্রের জিনিসপত্র কিনছেন মেলায় ঘুরতে আসা মানুষ আর এভাবেই বেঁচে থাকছে বাংলার পটচিত্র। হাসি ফুটছে শিল্পীদের মুখে। এই বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলা থেকে আসা এক পটশিল্পী জানালেন, “বিগত ২ বছর ধরে ব্যবসা অনেক মার খেয়েছে। কোনও জায়গাতেই সেরকম ভাবে মেলা বসেনি। তাই অনেক পট শিল্পীই বিকল্প রোজগারের দিকে পা বাড়িয়েছিলেন। ২০২২ সাল থেকে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আবার সেইসব শিল্পীরা এই ব্যবসায় ফিরে আসছেন। মেলাও বসছে আগের মতন। পটশিল্প আস্তে আস্তে তার পুরনো চেহারা ফিরে পাচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে”।
