Berhampore Court : মাস পার, এজলাস ‘বয়কট’ অব্যাহত – lawyers strike in berhampore court is still going on


এই সময়: গত সাত দিন ধরে বহরমপুর আদালতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি চলছে। সেখানে বিচারপ্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট। একটি জামিন-মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জেলা জজের কাছে এই নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। তবে গত এক মাস ধরে হাইকোর্টেরই এক বিচারপতির বেঞ্চ কার্যত বয়কট করে চলেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা, ফলে বিচারে বিঘ্ন ঘটেছে–সেই অব্যবস্থা রুখতে কেন সরকার বা হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ করছেন না–সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীমহলে। এরই মধ্যে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসের সামনে আন্দোলনের নামে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করা নিয়ে আদালত অবমাননার মামলায় আজ, বুধবার শুনানি রয়েছে তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে। গত ৯ জানুয়ারি হঠাৎই তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশ বিচারপতি মান্থার এজলাস বয়কটের নামে ইচ্ছুক আইনজীবীদের সওয়ালে বাধা দেন। এজলাসের গেট বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ।

DA West Bengal Latest Update: বিদ্যুৎকর্মীদের DA নিয়ে ফের জটিলতা! সিঙ্গেল বেঞ্চে রিভিউয়ের আবেদন প্রত্যাহার পর্ষদের
বিচারপতির যোধপুর পার্কের বাড়ির সামনে এবং হাইকোর্ট পাড়ায় তাঁর সমালোচনা করে পোস্টারও সাঁটা হয়েছিল। প্রবল সমালোচনা ও আইনজীবীদের অন্য অংশের বিরোধিতায় সপ্তাহখানেক পরে পিছু হটেন বয়কটপন্থীরা। কিন্তু তখন থেকেই ওই এজলাসে সরকারি প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের যে গরহাজিরা শুরু হয়েছিল, তা এখনও অব্যাহত। এ দিকে এজলাস বয়কট, পোস্টার নিয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় তিন বিচারপতির বেঞ্চ এর আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিল। তবে ওই ঘটনা বা কার নির্দেশে পোস্টার, কোন প্রেসে ছাপা, কারা সেঁটেছে–সে-সব নিয়ে তেমন জোরদার তথ্য নেই বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। যদিও আইনজীবীদের একাংশের পাল্টা দাবি, কোন প্রেসে ছাপা ওই পোস্টার, সেই মেশিনের নম্বর-সহ অনেক তথ্যই রয়েছে তাঁদের কাছে। আজ, বুধবার শুনানিতে সে-সব তাঁরা পেশও করতে চান।

Calcutta High Court: ‘এবার MI 5-কে ডাকতে হবে…’,খোদ CBI আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই তদন্তের হুঁশিয়ারি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
তবে বিচারপতি মান্থার এজলাসে সরকারি কৌঁসুলিদের গরহাজিরাই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা বিচারপ্রার্থীদের। বহু মামলাই ঝুলে থাকছে। আইনজীবীর পরিবর্তে পুলিশ অফিসারদের থেকে মামলার নথি নিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন বিচারপতি। পুলিশকর্মীরা বাংলাতেই নিজেদের বক্তব্য জানাচ্ছেন। তবে শুনানির গতি কমছে। হাইকোর্ট সূত্রে খবর, আগে যেখানে ওই এজলাসে মাসে গড়ে ৬০-৬৫টি মামলার নিষ্পত্তি হতো, গত এক মাসে তা ৪০ শতাংশ কমেছে। অথচ হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য সরকারের কেন এই নিয়ে তেমন তাপউত্তাপ নেই, তা নিয়ে বিরক্ত আইনজীবীদেরই অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, বহরমপুর নিয়ে হাইকোর্ট পদক্ষেপের পথে গেলেও হাইকোর্টেই একই রকম ঘটনায় নীরব কেন কর্তৃপক্ষ?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *