অভাব নিত্য সঙ্গী ছিল পেশায় কুমোর (Potter) মিস্ত্রী গুণধরের। তবে পরিবারে ভালোবাসার কোনও খামতি ছিল না। একটি মাত্র ছেলেকে নিয়ে লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই কাটছিল দিনগুলি। তবে পরিবারে প্রথমবার অন্ধকার ঘনিয়ে আসে যখন মাস ছয়েক আগে বাজারে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে গুরুতর জখম হন গুণধর। তারপর থেকে অসুস্থতা ঘিরে ধরে তাঁকে। অবশেষে বুধবার গুণধরের মৃত্যু হয়। কিন্তু স্বামীর এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি স্ত্রী গীতা। স্বামী শোকে পাথর গীতা দেবী কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছু সময় বাদে তিনিও সংজ্ঞা হারান। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি গীতা দেবীর। দুপুর নাগাদ চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গিয়েছেন গীতাও। আর এর মধ্যে দিয়েই পরিসমাপ্তি ঘটল ভালোবাসার একটি অধ্যায়ের।
বুধবার বিকেলে একইসঙ্গে শ্মশান যাত্রা করল গুণধর ও গীতার নস্বর দেহ। পাশাপাশি দুটি চিতা সাজিয়ে তাঁদের দাহ করা হল। এই যান্ত্রিকতার যুগেও ভালোবাসার এহেন নজিরে হতবাক এলাকাবাসীরা। মৃতদের পরিবারের দাবী, অভাব অনটন, অসুস্থতার মধ্যেও একে অন্যের থেকে কোনওদিনই দূরে সরে যেতে দেখা যায়নি গুণধর ও গীতাকে।
তবে এভাবে তাঁরা যে একই সঙ্গে শ্মশান যাত্রা করবেন তা ঘুনাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি কেউই। একসঙ্গে বাবা ও মা কে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁদের একমাত্র ছেলে ঝন্টু। তাঁর স্ত্রীও এই শোকের ধাক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমন দুঃখের সময়ে পরিবারের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় মানুষজন।
